রবিবার, ১০ই জুন, ২০১৮

মুর্শিদাবাদকে উদ্ধার করার ডাক মমতার

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৫
news-image

mamata-2‘মুর্শিদাবাদকে উদ্ধার করতে হবে।’ বুধবার সাগরদিঘির ধুমার পাহাড়ে প্রশাসনিক সভায় এ কথা বলেছেন মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা ব‍্যানার্জি। এ প্রসঙ্গে তিনি সিরাজদ্দৌলা এবং মিরজাফরের কথা উল্লেখ করেছেন। এক সময়ে বাংলার সম্মান তুলে ধরেছিল মুর্শিদাবাদ। সিরাজদ্দৌলা বাংলার সম্মান রক্ষা করতে মিরজাফরের হাতে উষ্ণীষ তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্মান রক্ষা হয়নি। মুর্শিদাবাদকে উদ্ধার করতে হবে।

সিরাজদ্দৌলার মতো বাংলার সম্মান রক্ষা করতে মুর্শিদাবাদকেই এগিয়ে আসতে হবে। নিজের বক্তবে‍্য মুখ‍্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদের ‘বেহাল অবস্থা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, ‘এই জেলায় আমাদের কোনও সাংসদ নেই, জেলা পরিষদ নেই। একজন বিধায়ক, সুব্রত সাহা। পরে ২ জন এসেছেন। কোনও কিছু না থাকা সত্ত্বেও আমি কিন্তু কখনও মুর্শিদাবাদের প্রতি অবিচার করিনি। একটার পর একটা কাজ করে গেছি। দিল্লি বা কলকাতায় যাঁরা বছরের পর বছর ক্ষমতায় ছিলেন, কী করেছেন তাঁরা? জঙ্গিপুরে যে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, তার জমির ব্যবস্থা আমি করেছি। মুর্শিদাবাদের অবস্থা খুবই করুণ। ভুটানে গিয়ে দেখছি, হোটেলে কাজ করছে মুর্শিদাবাদের ছেলে। মুম্বইয়ে বিস্ফোরণে মৃত্যু হল মুর্শিদাবাদের ছেলের। আমি বলি, আর জেলা ছেড়ে যাবেন না। কাজের ব্যবস্থা হচ্ছে। কাজ পাবেন। আমাদের ১০০ দিনের কাজ খুবই ভাল।’

তিনি বলেন, ‘শুধু ভোট এলে ভোটের বাক্সে ভোট নেব, ভোট শেষ হলে ঘোঁট করব, এ–সব চলতে দেওয়া হবে না। আমি মুর্শিদাবাদের প্রান্ত উন্নয়নে ভরিয়ে দেব।’ বি জে পি–র নাম না করে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এত অসহিষ্ণুতা কেন? রাজনীতিতে পারছি না বলে আঘাত করতে হবে? সহিষ্ণু হতে শিখুন! আমাদের দেখে শিখতে পারেন। আমি দেখেছি, ভোট এলেই হিন্দু–মুসলিম ঝুলি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। কেন এমন হবে? কেন ভোট নিয়ে হিন্দু–মুসলিম ভাগ করা হবে? আমি মানুষদের নিয়ে চলি। মনে রাখবেন, কুৎসা করা জীবন নয়। ধমকে আমাকে থামানো যাবে না। আর সি পি এম রাজ্যকে দেউলিয়া করে গিয়েছিল। ভেবেছিল, আমি রাজ্যের হাল দেখে পালিয়ে যাব। আমি পালিয়ে যেতে নয়, কাজ করতে এসেছি।’

সাফল্যের খতিয়ান তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্য জুড়ে কাজের জোয়ার বইছে। আজ এখানে আমি ৯১টি প্রকল্পের শিলান্যাস করলাম। ৯৪টি প্রকল্পের উদ্বোধন হল। এক লাখ ছাত্রছাত্রীকে বৃত্তি দেওয়া হল। ৫০ হাজার ছাত্রী কন্যাশ্রীর আওতায় এল। মুর্শিদাবাদের ৭১ শতাংশ মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন। আমরা যা বলি, সেটা করে দেখাই। আজ সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটের ৫০০ মেগাওয়াটের প্রকল্প চালু হল। আরও ৫০০ মেগাওয়াটের ইউনিট হবে। আমরা রাজ্যের সবার ঘরে ঘরে আলো পৌঁছে দিয়েছি। বাংলায় আর লোডশেডিং হয় না। অন্য রাজ্যে আমরা বিদ্যুৎ বিক্রি করি। আমরা বিদ্যুৎ ব্যাঙ্কও করেছি। সবুজ সাথী প্রকল্পে ৪০ লাখ ছাত্রছাত্রী উপকৃত। যা দেশের অন্য কোনও রাজ্যে নেই। রাজ্যে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য–পরিষেবা চালু হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি থেকে ৩ টাকা দামে চাল–গম পাবেন রাজ্যের সবুজ কার্ডধারীরা। কেন্দ্র তো রেশন–ব্যবস্থাকে তুলে দিতে চাইছে। আমাদের টাকাপয়সা েনই। তবুও আমরা মানুষদের কম দামে চাল–গম রেশনের মাধ্যমে দেব। কান্দিতে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু হয়েছে। তেমনই মেদিনীপুরে কপালেশ্বরী–ঘাটাল প্রকল্পের কাজও চলছে। কাজের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করা হচ্ছে আমাদের প্রধান কাজ। আরও কাজ করার ইচ্ছে থাকলেও করতে পারছি না টাকার জন্য। সি পি এমের দেনার দায় বইতে হচ্ছে আমাকে। আমাদের যা আয় হয়, তার ৯০ শতাংশ কেন্দ্র সরকার কেটে নিচ্ছে। আমাদের প্রাপ্য টাকাও দিচ্ছে না। তবে বলি, আমাকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না। কাজ করার জন্য জীবন–মরণ পণ করেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বাংলার জন্য কাজ করে যাব।’

এদিন বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন ও শিলান্যাসের সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেন সাইকেল। সংখ্যালঘু মানুষদের হাতে দেন ঋণপত্র।

মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মঞ্চে ছিলেন সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত সাহা, রাজ্য কর্মনিশ্চয়তা কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান মান্নান হোসেন, জেলাশাসক রত্নাকর রাও, ইন্দ্রনীল সেন প্রমুখ। মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনতে মানুষের ভিড় উপচে পড়েছিল। মঙ্গলবার সন্ধেতেই মুখ্যমন্ত্রী মালদা থেকে বহরমপুরে চলে আসেন। বুধবার দুপুরে সড়কপথে যান ধুমার পাহাড়ে। সভা সেরে কপ্টারে ফেরেন কলকাতায়।