সোমবার, ১১ই জুন, ২০১৮

বিজেপির আইন অমান্যে রাজ্যজুড়েই লাঠিচার্জ

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৫
news-image

পশ্চিমবঙ্গে আইন–শৃঙ্খলার অবনতি, চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি, মহিলা নির্যাতন, ইত্যাদির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজ্য বি জে পি বুধবার জেলায় জেলায় আইন অমান্য কর্মসূচি পালন করল। কর্মী–সমর্থকেরা বহু জায়গায় পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়লে পুলিস লাঠিচার্জ করে। বেশ কয়েকজন এতে আহত হন। বিভিন্ন এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে অনেককে।

হুগলিতে কৈলাস বিজয়বর্গীয়: নীলরতন কুণ্ডুর খবর, বুধবার দুপুরে হুগলি জেলা বি জে পি–র ডাকে শ্রীরামপুরে আইন অমান্য আন্দোলনে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বি জে পি–র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। আইন অমান্য কর্মসূচির আগে মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, দিল্লি সরকারের এক আধিকারিকের ঘরে সি বি আই হানা দিয়েছে। এতে সবথেকে বেশি ঝাঁঝ লেগেছে দিদির গায়ে। তিনি সব থেকে বেশি ব্যথা পেয়েছেন। কারণ, এরপরে দিদির দপ্তরে হানা দেওয়ার পালা। সি বি আই দিদির দপ্তরে হানা দেবে। তিনি বলেন, সারদা ও রোজভ্যালি–সহ যত চিটফান্ড এ রাজ্যে আছে, সেগুলোর সঙ্গে দিদির মন্ত্রীরা ও পরিবারের লোকজন জড়িয়ে আছে। আমি যখন ইন্দোরে ছিলাম, দিদির চালচলন, বেশভূষা দেখে ও কথাবার্তা শুনে মনে হত, তিনি দেশের সব থেকে গরিবদরদি মানুষ। খুব ভাল মনের মানুষ। কিন্তু পরে জানতে পারলাম ওনার ডুয়েল চরিত্র। প্রায় কয়েক হাজার দলীয় কর্মী শ্রীরামপুরের মহকুমা শাসক ও আদালত চত্বরের বাইরে আইন অমান্য কর্মসূচিতে যোগ দেন। ওই সময় কর্মীদের সঙ্গে পুলিসের প্রবল ধস্তাধস্তি হয়। পুলিস ব্যারিকেড করে বিক্ষোভকারীদের আটকে দিলে তারা পুলিসের দিকে কয়েকটি ইটের টুকরো ও বোতল ছুঁড়ে মারে। ওই সময় পুলিস অল্পবিস্তর লাঠি চালালে আহত হন তিনজন। এরপর দলীয় মঞ্চ থেকে নেতৃবৃন্দ ঘোষণা করেন, এদিনের কর্মসূচিতে পাঁচ হাজার কর্মী পুলিসের কাছে গ্রেপ্তার বরণ করেন।

আসানসোলে রূপা: দেবব্রত ঘোষের খবর, এদিন বেলা বারোটা নাগাদ আসানসোল স্টেশন থেকে বি জে পি–র রাজ্য সহ–সভাপতি সুভাষ সরকার, রীতেশ তেওয়ারি, বর্ধমান জেলা সভাপতি নির্মল কর্মকার, সম্পাদক প্রশান্ত চক্রবর্তী–সহ বহু বি জে পি সমর্থক বিক্ষোভ–মিছিল শুরু করেন। সেই মিছিল বি এন আর মোড়ে রবীন্দ্র ভবনের সামনে এলে সেখানে বক্তৃতা করেন সুভাষ সরকার, রীতেশ তেওয়ারি, নির্মল কর্মকার, প্রশান্ত চক্রবর্তী। মিছিল অতিরিক্ত জেলাশাসকের দপ্তরের দিকে যাওয়ার সময় স্টেট ব্যাঙ্কের সামনে পুলিস আটকায়। বি জে পি সমর্থকেরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে গেলে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে আসানসোল আদালতের পাশে বিদ্যাসাগরের মূর্তির কাছে পুলিসের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় বি জে পি সমর্থকদের মধ্যে। তাতে জামা ছিঁড়ে যায় সুভাষ সরকারের। ধাক্কাধাক্কিতে রীতেশ তেওয়ারি পড়ে যান। পুলিস ব্যারিকেড করে বিক্ষুব্ধ বি জে পি সমর্থকদের এগিয়ে যেতে বাধা দেয়। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন বি জে পি নেত্রী রূপা গাঙ্গুলি। আসানসোলের এ ডি সি পি (সেন্ট্রাল) রাকেশ সিং ঘোষণা করেন, এই ঘটনায় পুলিস রূপা–সহ পাঁচ হাজার বি জে পি সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে। এর পর স্বাভাবিকতা ফেরে।

বারুইপুরে হাসপাতালে জখম মহিলা কর্মী: গৌতম চক্রবর্তীর খবর, বি জে পি–র আইন অমান্য ঘিরে তুলকালাম ঘটল বারুইপুর মহকুমা কার্যালয়ের সামনে। পুলিসের সঙ্গে বি জে পি কর্মীদের ধস্তাধস্তিতে এক মহিলা বি জে পি কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বারুইপুর থানার পুলিস আধিকারিকরা আইন অমান্য কর্মসূচি রুখতে এলেও তাদের সঙ্গে কোনও মহিলা পুলিসকর্মী ছিলেন না। ফলে, মহিলা বি জে পি কর্মীকে পুরুষ পুলিস কর্মীরাই ঠেলাঠেলি করে রাস্তায় ফেলেছেন এবং মারধরও করেছেন। যদিও পুলিস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বি জে পি–র তরফে জানানো হয়, রাজ্যের নারী নির্যাতন–সহ একাধিক বিষয় নিয়ে তারা এদিন বারুইপুরে মহকুমা কার্যালয়ের সামনে আইন অমান্য কর্মসূচি নিয়েছিল। প্রশাসনকে জানিয়েই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। পুলিস তাদের এই কর্মসূচি রুখতে বিশাল পুলিস বাহিনী ও র‍্যাফ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু কোনও মহিলা পুলিসকর্মী ছিল না। বি জে পি–র মহিলা কর্মীরা সামনের সারিতেই ছিলেন।

রাজ্য নেতা জয় ব্যানার্জি ও জয়প্রকাশ মজুমদারকে নিয়ে বারুইপুরের পদ্মপুকুর থেকে মিছিল করে বি জে পি কর্মীরা মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে আসেন। সেখানেই পুলিস তাদের বাধা দিতে শুরু করে। মহিলা কর্মীদের সঙ্গে পুলিসের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বচসাও বাধে। অভিযোগ, সেই সময়ই মিঠু ব্যানার্জি নামে এক মহিলা বি জে পি কর্মীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় পুলিসকর্মীরা। তাঁকে রাস্তায় ফেলে মারধরও করা হয়েছে। বি জে পি নেতা জয় ব্যানার্জি ও জয়প্রকাশ মজুমদার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। প্রশ্ন তোলেন মহিলা পুলিসকর্মী নেই কেন, তা নিয়ে। বি জে পি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি জয়ন্ত গুপ্ত বলেন, বৃহস্পতিবার সল্টলেকে মহিলা কমিশনারের কাছে মহিলা পুলিস কর্মী না থাকায় অভিযোগ জানানো হবে।

বর্ধমানে রাজ্য সভাপতি: বিজয়প্রকাশ দাসের খবর, বর্ধমান জেলাশাসকের অফিসের সামনে আইন অমান্য করলেন বি জে পি–র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রাজ্যে আইন–শৃঙ্খলার অবনতি, বি জে পি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফঁাসানো ও মিছিল–মিটিং করার জন্য অনুমতি না দেওয়া–সহ বিভিন্ন অভিযোগে এদিনের আইন অমান্য আন্দোলনে দু’হাজার বি জে পি নেতা–কর্মী গ্রেপ্তার বরণ করেন। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, আমরা কখনও কারও গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করিনি, করব না। দিল্লি হোক ও কলকাতা হোক, সি বি আই তার কাজ করবে। আমি সরকারের পক্ষ থেকে বলতে পারি, সরকার সংবিধান মেনে কাজ করবে। সারদা প্রসঙ্গে বলেন, গত বছর প্রায় ৬ জন জেলে ছিলেন, নতুন করে ৫–৭ জনকে ডাকা হয়েছে, লিস্ট আসছে। কাকে ডাকবে? কখন ডাকবে? আমার জানা নেই। তবে আমরা যেটা জানি, বেশিরভাগ মন্ত্রী এবং নেতা এর সঙ্গে যুক্ত আছে। যথাসময়ে তা জানা যাবে। আমাদের কাছে কারও নাম নেই। দিদিই যাদের নাম বলে দিয়েছিলেন তারা ঢুকে গেছে। পরের লিস্টটা দিদিই বলবেন। তারপর আবার ডাকবে। খাগড়াগড়–কাণ্ড নিয়ে তৃণমূলের কারও নাম চার্জশিটে নেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও সময় আছে। পরে জানা যাবে। তঁার অভিযোগ, আমি মেদিনীপুরের লোক। সেখানে মিছিল–মিটিং, স্ট্রিট কর্নার করতে দেওয়া হচ্ছে না। ওসি–রা বলছেন, এস পি–র অনুমতি লাগবে। তৃণমূল চাইছে না অন্য কারও আওয়াজ আসুক। ওরা বি জে পি–কে ভয় পাচ্ছে। কারণ, তৃণমূলকে বাংলাছাড়া করতে পারে বি জে পি।

তমলুকে যানজট: সৈকত মাইতির খবর, এদিন তমলুকের মানিকতলা মোড়ে আইন অমান্য কর্মসূচি পালন করেন বি জে পি সমর্থকেরা। কর্মসূচিতে ছিলেন রাজ্য বি জে পি–র সহ–সভানেত্রী দেবশ্রী চৌধুরি, ফুটবলার ষষ্ঠী দুলে, জেলা সম্পাদক সুকুমার দাস প্রমুখ। জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
হাওড়ায় লকেট: প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়ের খবর, আইন অমান্য কর্মসূচিতে হাওড়ার জেলা সভাপতি তুষারকান্তি ঘোষ, অভিনেত্রী লকেট চ্যাটার্জি, জেলা নেতা দেবাঞ্জল চ্যাটার্জির নেতৃত্বে জেলা শাসকের অফিসের সামনে এক হাজার বি জে পি কর্মী–সমর্থক আইন অমান্য করে গ্রেপ্তার বরণ করেন। পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হওয়ায় কয়েকজন জখম হন।