বৃহস্পতিবার, ১৪ই জুন, ২০১৮

নির্ভয়াকাণ্ড: ধর্ষকের মুক্তির বিরুদ্ধে রাতেই লিভ পিটিশন মহিলা কমিশনের

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ডিসেম্বর ১৯, ২০১৫

নয়াদিল্লি: নির্ভয়াকাণ্ডে দোষী নাবালক অপরাধীর মুক্তি রুখতে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয়েছে দিল্লির মহিলা কমিশন। এবার স্পেশাল লিভ পিটিশন জমা দিতে চলেছে তারা।

সংগঠনের প্রধান স্বাতী মালিওয়াল জানিয়েছেন, আজ শনিবার রাতেই সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হবে স্পেশাল লিভ পিটিশন।

নাবালকের মুক্তি স্থগিত করার আবেদন শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট খারিজ করার পরই কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতী মালিবাল রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস ঠাকুর এবং জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের প্রিন্সিপাল ম্যাজিস্ট্রেট মুরারী প্রসাদ সিংহকে চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি জানান, এই অপরাধীর স্বভাব যে বদলেছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই যেন তাকে মুক্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া চিঠিতে স্বাতী লিখেছেন, অপরাধীর অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে আমরা আবেদন করছি, আপনি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুন। ওই অপরাধীকে আগে পর্যবেক্ষণে রেখে নিশ্চিত হওয়া দরকার যে তার মানসিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। চিঠিতে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে আরও লেখা হয়েছে, যদি আপনি ঠিক মনে করেন, তাহলে দিল্লি মহিলা কমিশন ও দিল্লি রাজ্য আইনি পরিষেবা নিগম-কে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। ওই কমিটি গিয়ে অপরাধীর মানসিক অবস্থার পরীক্ষা করবে। একইসঙ্গে, জুভেনাইল জাস্টিস সংশোধনী বিলের দ্রুত রূপায়ণের জন্য হস্তক্ষেপ করতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন স্বাতী।

বস্তুত, দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডে অন্যতম দোষী সাব্যস্ত হয় ওই নাবালক। ঘটনার সময় তার বয়স আঠারো বছরের কম থাকায় বাকিদের মতো তার পূর্ণ সাজা হয়নি। যদিও, পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, এই নাবালকই সেই রাতে সবচেয়ে বেশি নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছিল। বয়স বিচার করে আদালত তাকে তিন বছর জুভেনাইল হোমে রাখার নির্দেশ দেয়। সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল।

এদিকে, নাবালক (বর্তমানে তার বয়স ২০) অপরাধী যাতে এত সহজে মুক্তি না পায়, সে জন্য দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। কিন্তু, শুক্রবার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর তাকে সেখানে আটকে রেখে দেওয়ার কোনও নির্দেশ দেওয়া যায় না। ছাড়া পাওয়ার পর সমাজে ছেলেটির ‘পুনর্বাসন ও তাকে সমাজের মূল স্রোতে ফেরানো’র ব্যাপারে কী হবে, সে ব্যাপারে তার সঙ্গে কথা বলতে জুভেনাইল বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। এ ব্যাপারে তার অভিভাবক ও দিল্লি সরকারের মহিলা ও শিশুকল্যাণ দফতরের অফিসারদের সঙ্গেও বোর্ডকে কথা বলতে বলেছে আদালত।