রবিবার, ১০ই জুন, ২০১৮

শহরে বাড়ছে দূষণ: কারণ গাড়ির গতি কম, বেশি ব্রেক-ক্লাচ

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ডিসেম্বর ১৯, ২০১৫
news-image

কলকাতাঃ বায়ু দূষণ এখনও কলকাতার যে-কে সেই হাল। বিষে ভরা তিলোত্তমার বুক। একটি বা দুটি নয়, দূষণের উৎস একাধিক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিল্লিতে যানচলাচলের রাস্তা শহরের মোট আয়তনের ২৬ শতাংশ। কলকাতায় এই হার মাত্র ৬ শতাংশ। ফলে রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি। ধীর গতিতে চলে গাড়ি। অফিস টাইমে দিল্লিতে যেখানে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চলে। সেখানে কলকাতায় গাড়ির গতি গড়ে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার।

ঘনঘন ক্লাচ ও ব্রেক কষতে হয়। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এভাবে যত বেশি ক্লাচ, ব্রেক কষতে হচ্ছে, তত বেশি কার্বন নির্গত হচ্ছে গাড়ি থেকে। ফলে বাড়ছে দূষণও।

পরিসংখ্যান এও বলছে, কলকাতায় প্রতিদিন প্রায় ৯৩ লক্ষ লিটার পেট্রোল ও ২ কোটি ২ লক্ষ লিটার ডিজেল বিক্রি হয়। সেই জ্বালানি তেল থেকে নির্গত কার্বনও দূষিত করছে বাতাসকে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কলকাতায় প্রতি ঘন মিটার যেখানে এক মাইক্রোগ্রামের নীচে কার্বন-মনো অক্সাইড থাকা উচিত, সেখানে তা রয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা রিপোর্ট বলছে, বাতাসে আর্সেনিকের পরিমাণ প্রতি ঘন মিটারে ৬ ন্যানোগ্রামের জায়গায় রয়েছে ৬০০ ন্যানোগ্রাম। সীসার পরিমাণ অন্তত ১০ শতাংশ বেশি। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণও অত্যধিক বেশি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, দৃশ্যমান ধূলিকণা পিএম টেন যেখানে প্রতি ঘন মিটার বাতাসে ১০০ মাইক্রোগ্রামের নীচে থাকা উচিত, সেখানে কলকাতায় তা রয়েছে ২০০ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে, অদৃশ্য ধূলিকণা পিএম টু পয়েন্ট ফাইভের পরিমাণও কলকাতায় ৩০০ শতাংশ বেশি।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশিকা না মেনে নির্মাণের ফলেই এভাবে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে চলেছে। কিন্তু, কীভাবে? দায় এড়িয়ে পুরসভার দিকে বল ঠেলে দিয়েছে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।
সরকার-প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ শহরবাসী। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি যাঁতাকলের জন্যই আজ প্রতিমুহূর্তে বিষাক্ত বাতাস বুক ভরে নিয়ে চলতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে৷