সোমবার, ১১ই জুন, ২০১৮

বৌদ্ধ সম্মেলনের উদ্বোধন আগরতলায়

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ডিসেম্বর ২০, ২০১৫
news-image

ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টির মধ্যে বৈচিত্র্য থাকলেও একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করার জন্য আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির প্রতিনিধিদের কাছে আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।

শুক্রবার সকালে প্রজ্ঞা ভবনে ভারত–সহ দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার ৮টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহ্য বিষয়ক ৩ দিনের আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি। রাজ্যে এ ধরনের আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সমাবেশ এই প্রথম। সেমিনার হবে মূলত দু’দিন।

শেষ দিন সেমিনারে আসা প্রতিনিধিদের সাব্রুম ধম্ম দীপা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হবে।

সেমিনারের উদ্যোক্তা ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন (আই বি সি) হলেও সহযোগিতা করছে শিলং এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স ও সাব্রুমের ধম্ম দীপা ফাউন্ডেশন। ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, হংকংয়ের প্রতিনিধিরা যোগ দেন এই সম্মেলনে।

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে সম্মেলনে আসা নেপালের সংস্কৃতি, পর্যটন ও অন্যান্য দপ্তরের মন্ত্রী আনন্দপ্রসাদ পোখারেল এবং শ্রীলঙ্কার সাংসদ ভেন আথুরালিয়ে রথনাথেরা, আই বি সি–র সেক্রেটারি জেনারেল ভেন, লামা লোবজ্বাং–সহ অন্য দেশের প্রতিনিধিদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ ধরনের সম্মেলনের জন্য ত্রিপুরাকে বেছে নেওয়ায় রাজ্যবাসীর পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন গোটা বিশ্বে এক অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে উন্নত দেশগুলি সাম্রাজ্যবাদ ও একনায়কতন্ত্র কায়েম করার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলির ওপর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই করছে। এটা সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। গোটা বিশ্ব জুড়েই এর বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় বইছে। এদিকে ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে এখন এক অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যা দেশবাসীর জন্য খুবই বিপজ্জনক। জাত–পাত–বর্ণ–ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে দেশের একতা রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। এর জন্য চাই শান্তি, সম্প্রীতি, ভালবাসা। যা বুদ্ধদেব চেয়েছিলেন। আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে বুদ্ধদেব শান্তির পক্ষে যে স্লোগান তুলেছিলেন, তার মূল বার্তা ছিল মানুষকে ভালবাসো, শ্রদ্ধা করো। সহনশীল হও।

সার্ক ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ, রেল, বিমান, টেলি–যোগাযোগের আরও উন্নতি ঘটাতে হবে। প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষা–সংস্কৃতি ও ব্যবসা–বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে হবে। এই সমস্ত বিষয়ে রাষ্ট্রনায়কদের আরও বেশি করে ভূমিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, শান্তির কোনও বিকল্প হতে পারে না। এ বিষয়ে বুদ্ধের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও রাজ্যকে মজবুত করতে একে অপরের মধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নেপালের সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বুদ্ধ সব ধর্মকেই সমানভাবে দেখতেন। তাই তিনি শান্তির দূত হিসেবে অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন গোটা পৃথিবীতে। আজ আবার তঁার প্রয়োজন এসেছে। তাকে রক্ষা করতে এই ধরনের সম্মেলন যথেষ্ট সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে তাঁর ধারণা। এতে সমাজ উপকৃত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে ভারত ও নেপালের মধ্যে বুদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃিত আরও সুদৃঢ় হবে।

শ্রীলঙ্কার সাংসদ বিশ্ব উষ্ণায়ন, সবুজ বিপ্লব, পুনর্নবীকরণ শক্তির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। রাসায়নিক সারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কীভাবে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলা যায়, এ বিষয়ে রাষ্ট্রনায়কদের আরও বেশি করে ধ্যান দিতে হবে। ত্রিপুরার চারদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজ বনানী দেখে তিনি মুগ্ধ। তাঁর আশা, রাজ্য সরকার একে ধরে রাখতে যথেষ্ট উদ্যোগী ভূমিকা নিচ্ছে। আগামী দিনে সবুজ বিপ্লবের প্রয়োজনে কোনও প্রযুক্তির দরকার হলে শ্রীলঙ্কা পাশে থাকবে বলে তিনি জানিয়ে দেন।

আলোচনা করেন আই বি সি–র সেক্রেটারি জেনারেল–সহ অন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সেমিনারে প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেন এশিয়ান কনফ্লুয়েন্সের অধিকর্তা সব্যসাচী দত্ত।