বৃহস্পতিবার, ১৪ই জুন, ২০১৮

ত্রিপুরাকে ভাগ করার দাবিতে আই পি এফ টি’র বন্‌ধ

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ডিসেম্বর ১৯, ২০১৫
news-image

ত্রিপুরাকে ভাগ করার দাবিতে আই পি এফ টি–র ডাকা বন্‌ধ প্রত্যাখ্যাত। এ ডি সি–র বিস্তীর্ণ উপজাতি জনপদে বন্‌ধের কোনও প্রভাব পড়েনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, হাট–বাজার খোলা ছিল। যানবাহন চলছে। তবে সকাল থেকেই সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেছে বন্‌ধের সমর্থনে পিকেটাররা। বন্‌ধের ডাকে সাড়া না পেয়ে চার–পাঁচটি স্থানে হামলা–হুজ্জতির চেষ্টা করেছে আই পি এফ টি–র সমর্থকরা। এ ডি সি–র সদর দপ্তর খুমুলুঙে বহিরাগতদের জমায়েত করিয়ে ব্যাপক প্ররোচনা সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছে।

অভিযোগ পানিসাগরের খেদাছড়ায় সি পি এম অফিস ভাঙচুর করার। লংতরাইভ্যালির করমছড়া, বিশালগড়ের বংশীবাড়ি, মোহনপুরের হেজামারা, দাইগ্যাবাড়িতে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা হয়। গন্ডাছড়ার রইস্যাবাড়িতে ভয়–ভীতি দেখানো হয়েছে।

সাব্রুম মহকুমার রূপাইছড়ি, মনুবনকুল, শান্তিরবাজারের কিছু জায়গায় আই পি এফ টি কর্মীরা জোর করে দোকানপাট বন্ধ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

সি পি এমের দাবি, ত্রিপুরাকে ভাগ করার বিভেদকামী দাবিতে আই পি এফ টি–র ডাকা এ ডি সি এলাকা বন্‌ধ বিস্তীর্ণ উপজাতি জনপদে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এ ডি সি এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নকামী জনগণ অখণ্ড ত্রিপুরার পক্ষে যে দৃঢ় অবস্থান জানান দিয়েছে, সি পি এম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী তার জন্য এ ডি সি এলাকার জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

এদিকে, বুধবার রাত ৮টায় আগরতলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে আই পি এফ টি সভাপতি এন সি দেববর্মা দাবি করেন, বন্‌ধ শান্তিপূর্ণ এবং স্বতঃস্ফূর্ত ছিল। ছোটখাটো দু–একটি ঘটনা ছাড়া বন্‌ধ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় এ ডি সি এলাকার মানুষকে অভিনন্দন জানান তিনি।

পুলিসের দাবি, রাজ্যে ৩১৫৭ জন গ্রেপ্তার বরণ করেছেন। অভিযোগ করেন, খুমুলুঙ এবং বিশালগড় দুটি জায়গায় সি পি এমের আক্রমণে ৪ জন আহত হয়েছেন। তবে বন্‌ধকে ঘিরে পুলিসের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে আই পি এফ টি। পুলিস–সহ নিরাপত্তাকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

সি পি এম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর অভিযোগ, খেদাছড়া অঞ্চল কমিটির অফিসে হামলা চালায়। মাছের দোকানে লুটপাট করে। বিশালগড় মহকুমার বংশীবাড়িতে আই পি এফ টি কর্মীদের লাঠির আঘাতে সি পি এম শাখা সম্পাদক নির্মল দেববর্মা গুরুতর আহত হন। তাঁকে বিশালগড় হাসপাতাল থেকে জি বি–তে রেফার করা হয়েছে। মোহনপুর মহকুমার হেজামারায় বেলা দেড়টা নাগাদ একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বিভেদকামী এই বন্‌ধ সম্পর্কে কংগ্রেস এবং আই এন পি টি দলের কোনও অবস্থান রাজ্যবাসীর নজরে আসেনি।

সি পি এম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী তাদের এই সুবিধাবাদী রাজনীতির সমালোচনা করেছে। বন্‌ধের প্রতি বি জে পি–র পরোক্ষ সমর্থন এ রাজ্যেও বি জে পি–র জাতীয় স্তরের বিভাজনের ঘৃণ্য রাজনীতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

কল্যাণপুর থেকে প্রতিনিধি: বন্‌ধ হয়েছে সর্বাত্মক। কোথাও ছিল মিশ্র সাড়া। কল্যাণপুরের ইয়াকরাই, মুড়াবাড়ি, আর এস পাড়া, বড় ময়দান, পশ্চিম কুঞ্জবন— সর্বত্র স্বাভাবিক ছিল স্কুল, অফিস। রমবাবু পাড়াতে পথ অবরোধ করে আই পি এফ টি কর্মী–সমর্থকরা। পিকেটারও ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন জায়গায়। পুলিসি নজরদারি ছিল সর্বত্র। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

তেলিয়ামুড়া থেকে প্রতিনিধি: তেলিয়ামুড়া ও মুঙ্গিয়াকামী ব্লকের প্রায় প্রতিটি উপজাতি জনপদে জনজীবন স্বাভাবিক ছিল। কিছু কিছু জায়গায় থমথমে ছিল পরিবেশ। কোথাও ব্যাঙ্ক, জোনাল অফিস খুলতে দেয়নি আই পি এফ টি কর্মী–সমর্থকরা।

উদয়পুর থেকে প্রতিনিধি: পঠন–পাঠন, অফিসের কাজকর্ম স্বাভাবিক ছিল আই পি এফ টি–র ডাকা এদিনের বন্‌ধে। কোনও কোনও জায়গায় স্কুল, অফিস খোলা ছিল। কিছু পড়ুয়া ও কর্মীসংখ্যা কম ছিল।

কমলপুর থেকে প্রতিনিধি: মহকুমা উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় বন্‌ধের কোনও প্রভাব পড়েনি। প্রতিদিনের মতো এদিন স্কুল, দোকানপাট স্বাভাবিক ছিল। যানবাহনও যথাবিহিত চলাচল করেছে। তবে রাস্তায় ছিল আই পি এফ টি কর্মী–সমর্থকরা।

অমরপুর থেকে প্রতিনিধি: বন্‌ধ হয়েছে সর্বাত্মক। তবে কিছু কিছু এলাকায় আই পি এফ টি কর্মী–সমর্থকরা রাস্তায় নেমে পিকেটিং করে। এদিন সকালে অমরপুর–যতনবাড়ি, অমরপুর–গন্ডাছড়া সড়কে পথ অবরোধ করে বন্‌ধকারীরা। বিভিন্ন জায়গা থেকে বন্‌ধ সমর্থকদের গ্রেপ্তার করে পুলিস।