বুধবার, ১৩ই জুলাই, ২০১৬

ভিনদল ছেড়ে আসা নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ অসম বিজেপিতে

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ডিসেম্বর ১৯, ২০১৫
news-image

গুয়াহাটি: বিরোধী শিবির ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা-কর্মীদের নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়েছে গেরুয়া বাহিনীতে। রাজনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, বিভিন্ন ঘটনায় তার ইঙ্গিত মিলছে।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে আসা ইকবাল হুসেনকে স্বাগত জানাতে গরহাজির ছিলেন করিমগঞ্জ জেলা বিজেপি কয়েক জন নেতা। দু’মাস আগে গুয়াহাটিতে প্রদেশ বিজেপির দফতরে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে চেয়েছিলেন ইকবাল। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সে দিন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় তৎকালীন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য ওই কর্মসূচি বাতিল করেন। দু’মাস পর করিমগঞ্জ জেলা বিজেপি সভাপতি বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য ও প্রদেশ বিজেপির উপ-সভাপতি মিশনরঞ্জন দাসের হস্তক্ষেপে গেরুয়া দলে যোগ দেন অসম তৃণমূলের সম্পাদক।

এ নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বিজেপির একাংশ কর্মীর মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র ভোটের টিকিটের জন্য যদি এ ভাবে বিভিন্ন দলের নেতাদের ভিড় বিজেপিতে জমতে থাকে, তা হলে এক দিন এ রাজ্যে বিজেপি নিজের অস্তিত্ব হারবে। করিমগঞ্জ জেলার ৫টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী প্রত্যাশীদের নাম নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। ওই কর্মীরা জানান— সমীক্ষা অনুযায়ী রাতাবাড়ি বিধানসভা নির্বাচনচক্রে কংগ্রেস ছেড়ে আসা বিধায়ক কৃপানাথ মালা, পাথারকান্দি আসনে জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ কৃষ্ণেন্দু পাল, উত্তর করিমগঞ্জে কংগ্রেসের প্রাক্তন পুরপতি মানস দাস, দক্ষিণ করিমগঞ্জ আসনে সদস্য তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা ইকবাল হুসেন যদি বিজেপির মনোনয়ন পেয়ে যান, তা হলে এ বার বিধানসভা ভোটে প্রকৃত কংগ্রেসের সঙ্গে পুরনো কংগ্রেসিদের লড়াই হবে।

বিজেপির ক্ষুব্ধ ওই কর্মীরা জানান, বদরপুর বিধানসভা আসনে যদি প্রাক্তন কংগ্রেস কর্মী তথা বর্তমান জেলা বিজেপি সভাপতি বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য মনোনয়ন পেলে করিমগঞ্জে বিজেপির নীতির কোনও অর্থ থাকবে না। তাঁদের কথায়, ‘‘করিমগঞ্জে দল এ পথে চললে অসমে বিহারের চাইতেও শোচনীয় পরাজয় হবে।’’

বিজেপিতে যোগ দেওয়া ইকবাল হুসেনকে নিয়ে রাতাবাড়িতে গিয়েছিলেন জেলা সভাপতি বিশ্বরূপবাবু। তা নিয়েও দলের একাংশে ক্ষোভ রয়েছেন। ওই নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূলের সদ্য-প্রাক্তন ওই নেতার কাজকর্ম গোটা অসমে বিতর্ক ছড়িয়েছিল। আন্তঃরাজ্য গাড়ি চোর চক্রের সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ায় তাঁকে আগাম জামিন নিতে হয়। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে জেলা বিজেপি সভাপতি ঘোরাফেরা করছেন, এতে আগামী দিনে দলের ক্ষতি হতে পারে।

তবে দলে এ ধরনের কোনও ক্ষোভের কথা প্রকাশ্যে মানতে চাননি রাজ্য বিজেপির কোনও শীর্ষ নেতা।

অন্য দিকে, ডিমা হাসাও জেলা বিজেপির অন্দরমহলেও প্রার্থীপদ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। দলীয় টিকিট চেয়ে গেরুয়া দল থেকে ১২ জন আবেদন করেছেন। কিন্তু দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রকান্ত ওয়ারিশা। বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপি প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে আজ রাজ্য বিজেপির উপ-সভাপতি মিশনরঞ্জন দাস এবং সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি সৈয়দ মমিনুল আওয়াল দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে হাফলং আবর্ত ভবনে দলের জেলাস্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বিজেপির ব্লক কমিটি, মণ্ডল কমিটি ও জেলা কমিটির নেতাদের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা করেন।

দলীয় সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে প্রার্থীপদ নিয়ে বিজেপি নেতাদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। দলের টিকিট প্রাপকদের প্রাথমিক নাম তালিকায় ৯ অক্টোবর কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রকান্ত  ওয়ারিশা, জেলা বিজেপি সভাপতি বি বি হাগজার, প্রাক্তন জেলা বিজেপির সভাপতি হামজানন লাংথাসার নাম নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এগিয়ে রয়েছেন প্রকান্ত ওয়ারিশা। ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের প্রাক্তন বিধায়ক সমরজিৎ হাফলংবার। তিনি বলেন, ‘‘দলীয় টিকিট চেয়ে প্রথমে যখন অনেকের আবেদন জমা নেওয়া হয়েছিল, তখন প্রকান্ত ওয়ারিশা বিজেপিতে যোগই দেয়নি। কী ভাবে প্রকান্তর নাম প্রার্থী তালিকায় উঠল?’’ সমরজিৎ আরও বলেন, ‘‘বর্তমানে ডিমা হাসাও জেলায় বিজেপির অবস্থা ভালো নয়। ওই প্রার্থীদের লড়াইয়ে নামালে আগামী নির্বাচনে ডিমা হাসাও জেলায় বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা নেই।’’ প্রার্থীপদ নিয়ে জেলা বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে বলে দাবি করেন সমরজিৎ। তিনি অভিযোগ তোলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে।