বুধবার, ১৩ই জুলাই, ২০১৬

বাঙালিদের সুরক্ষায় জাতীয় নেতাদের দ্বারস্থ বরাক উপত্যকা

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ডিসেম্বর ২১, ২০১৫
news-image

শিলচর: নাগরিকত্বের প্রশ্নে অসমের বাঙালি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা দিতে চার জাতীয় দলের হস্তক্ষেপ চাইল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গাঁধী, সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং সিপিআই সাধারণ সম্পাদক এস সুধাকর রেড্ডির কাছে এই মর্মে ই-মেল বার্তা পাঠিয়েছেন তাঁরা।

বরাক বঙ্গের আশঙ্কা, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)-তে বিপুল সংখ্যক বাঙালি এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে না। তাতে অসমে এক জটিল মানবিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই আগে ভাগে তাঁদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে আর্জি জানানো হয়েছে।

বরাক বঙ্গের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গৌতমপ্রসাদ দত্ত বলেন, ৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এ ক্ষেত্রে তা সদর্থক পদক্ষেপ হলেও মূল সমস্যা কিন্তু তাতে মিটবে না।’’ বিদেশি অজুহাতে ডি-ভোটার সাজানো, ট্রাইব্যুনালের এক তরফা রায়ে বিদেশি ঘোষণা, পুলিশি ধরপাকড়, ডিটেনশন ক্যাম্পের নামে জেলে ঢোকানো অব্যাহত রয়েছে। তাই এনআরসি প্রকাশের আগেই বর্তমান নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিল পেশ ও পাশের জন্য গৌতমবাবুরা আর্জি জানিয়েছেন। এর আগে, গত ২৪ নভেম্বর তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে তার কোনও সাড়া মেলেনি। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এ সম্পর্কে কেন্দ্র কোনও পদক্ষেপ করেনি।

ক্ষুব্ধ গৌতমবাবু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অন্যান্য জাতীয় নেতারা অসমের বাঙালিদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করতে কেউ সক্রিয় নন। তাঁরা বারবার পীড়িত জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন।’’ রাজনীতি তার মানবিক মুখটি হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় নেতৃবৃন্দকে লেখা স্মারকপত্রে বলা হয়েছে: অবিভক্ত ভারতের বাসিন্দা হয়েও ধর্মীয় উত্পীড়ন, আতঙ্ক ও রাজনৈতিক প্রতিশোধস্পৃহার শিকার হয়ে যারা স্বাধীন ভারতের ভূখণ্ডে আসতে বাধ্য হয়েছেন, নাগরিকত্ব ইস্যুতে অসমে তাঁরা এবং তাঁদের উত্তর-প্রজন্ম জটিল সমস্যার আবর্তে। এমনকী, ১৯৪৭-র আগে থেকে যাঁরা এ রাজ্যে বসবাস করছেন, তাঁদের পরিচিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। উগ্র অসমিয়া জাতীয়তাবাদীরা এটাই প্রমাণ করতে চায় যে, বাঙালি ও অন্যান্য অন-অসমিয়ারা বিদেশি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।

তাঁরা অমিত শাহ, সনিয়া গাঁধী, সীতারাম ইয়েচুরি এবং এস সুধাকর রেড্ডিকে জানান, অসমের খাসি ও জয়ন্তিয়া পার্বত্য জেলা মেঘালয় রাজ্যে পরিণত হয়। একই ভাবে লুসাই পার্বত্য জেলা ও নাগা পার্বত্য জেলা ক্রমে মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড নামে পৃথক রাজ্য হয়। রাজ্য পুনর্গঠনের

আগে ওই সব জায়গার ভোটার তালিকায় প্রচুর বাঙালির নাম ছিল। কিন্তু না পাওয়া যাচ্ছে ১৯৫১ সালের ভোটার তালিকা, না মিলছে একই বছরের নাগরিক পঞ্জি। সে জন্য বহু লোক তাঁদের লিগ্যাসি ডাটা সংগ্রহ করতে পারেননি। বরাকবঙ্গের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমান, নথি সরবরাহে সরকারের ব্যর্থতার দায় সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপানো হবে।

স্মারকপত্রে আরও বলা হয়েছে, অসমকে একটি রাজস্বে স্বনির্ভর এবং পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা পাওয়ার প্রয়োজনীয় লোকসংখ্যা দেখানোর জন্য ১৮৭৪ সালে শ্রীহট্ট, কাছাড় ও গোয়ালপাড়াকে তখনকার বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি থেকে কেটে চিফ কমিশনার শাসিত অসমে

অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ১৮৭৪ সালের পর যে সব বাঙালির এই অঞ্চলে জন্ম হয়েছে, তাঁরা সবাই এ দেশের বৈধ নাগরিক। তাঁদের নাগরিক অধিকার কোনও ভাবে খর্ব করা যায় না। পাশাপাশি শরণার্থীর সঠিক সংখ্যা নিরূপণ না করে জটিলতা সৃষ্টিরও চেষ্টা চলেছে বলে গৌতমাবুর অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এই প্রেক্ষিতেই শরণার্থী ও ভূমিপুত্র অন-অসমিয়াদের সুরক্ষায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিল সংসদে পেশ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’’