বুধবার, ১৩ই জুলাই, ২০১৬

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের শিলচর সফরে ব্রাত্য করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ডিসেম্বর ২১, ২০১৫
news-image

২৭ ডিসেম্বর শিলচরে আসছেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, সর্বভারতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাম মাধব, অসমে বিজেপির নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক হিমন্তবিশ্ব শর্মা। কিন্তু করিমগঞ্জ বা হাইলাকান্দিতে বিজেপি নেতৃত্বের সফর করার কোনও আগ্রহই দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে দলের একাংশ কর্মী হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মতে বড় নেতারা এলে সংগঠন অনেকটা চাঙ্গা হয়।

গত লোকসভা নির্বাচনে কাছাড় জেলায় বিজেপি প্রার্থী কবীন্দ্র পুরকায়স্থের হয়ে প্রচারে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সেই আসনে জয়লাভ করতে পারেননি বিজেপির প্রার্থী। করিমগঞ্জ এবং হাইলাকান্দি জেলা মিলিয়ে করিমগঞ্জ লোকসভা আসনে বিজেপির কোনও তাবড় নেতাই প্রচারে আসেননি। সেখানেও বিজেপি প্রার্থীর হার হয়।

এর পর থেকেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের বড় নেতারা বরাকে এলে কেবল কাছাড় সফর সেরেই ফিরে গিয়েছেন। পা বাড়াননি হাইলাকান্দি বা করিমগঞ্জের দিকে। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, রেল প্রতিমন্ত্রী সুরেশ প্রভু-সহ বিজেপির বেশ কয়েক জন কেন্দ্রীয় নেতা সম্প্রতি কাছাড়ে সফর করেন।

কাছাড় জেলার প্রতি বিজেপি নেতৃত্বের যতটা আগ্রহ, বরাকের অন্য দুই জেলার প্রতি বিজেপি নেতৃত্বের তেমন মনোযোগ নেই— এই অভিযোগ বিজেপির অন্দরমহল থেকেই উঠে আসছে। এমনকী নেতৃত্বের এমন মনোভাবে ওই দুই জেলার নেতা-কর্মীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।

শিলচরে মেডিক্যাল কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ, রেডিও স্টেশন থাকলেও বরাকের বাকি দুই জেলার মানুষ কাছাড় জেলার উপর কোনওভাবেই নির্ভরশীল নন। এমনকী, দুই জেলার বিধানসভা সমষ্টির আওতাও কাছাড় জেলার চেয়ে বেশি। করিমগঞ্জের বারইগ্রাম উপ নির্বাচনকে কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ আসন্ন বিধানসভা ভোটের মহড়া হিসেবে দেখছে। কিন্তু হেলদোল নেই বিজেপির।

বারইগ্রাম জেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই মন্ত্রী ও এক পরিষদীয় সচিব এবং এআইইউডিএফের একজন সাংসদ ও আটজন বিধায়ক প্রচার চালালেও বিজেপির কোনও বড় নেতাই সেখানে প্রচারে আসেননি। এ নিয়েও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে। এমনকী বরাকে থাকা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাজদীপ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক নিত্যভূষণ দেও একবারের জন্যও প্রচারে আসেননি।

বারইগ্রাম জেলা পরিষদ আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট ৩৬ হাজার এবং হিন্দু ভোট প্রায় ১২ হাজার। ভোটের অঙ্কে যদিও বিজেপি প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা কম, তবুও দলের তরফে ন্যূনতম শক্তি প্রদর্শন না করে অন্য দলদের ‘ওয়াক ওভার’ দিয়ে দেওয়া বিজেপি কর্মীরা মানতে পারছেন না।

তাঁদের বক্তব্য, বরাক উপত্যকায় যখন বিজেপির ভিত তেমন মজবুত ছিল না, তখনও করিমগঞ্জ জেলার পাঁচটি বিধানসভা আসনই বিজেপির দখলে ছিল। কিন্তু করিমগঞ্জ এবং হাইলাকান্দি জেলার প্রতি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এমন মনোভাব অব্যাহত থাকলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তার খেসারত দিতেই হবে।

করিমগঞ্জ জেলা বিজেপি সভাপতি বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য অবশ্য দলের কর্মীদের ক্ষোভের কথা আড়াল করে বলেন, ‘‘করিমগঞ্জ জেলায় রাজ্য পর্যায়ের দলীয় সভা হয়েছিল। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতা মহেন্দ্র সিং ছিলেন। আশা করি ভবিষ্যতেও নেতারা এখানে আসবেন।’’