রবিবার, ১০ই জুন, ২০১৮

ইঞ্জিনিয়ারদের সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ডিসেম্বর ২১, ২০১৫
news-image

কাজের গতি কমছে কেন? এই প্রশ্ন সামনে রেখে ইঞ্জিনিয়ারদের সমালোচনায় বিঁধলেন মুখ‍্যমন্ত্রী। ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত–ভিলেজ কমিটি মিলে ১১০০–র বেশি। জনবসতি আছে ৮ হাজার। ৯৫ ভাগ জনবসতিতে সব ঋতুতে গাড়ি চলাচলের রাস্তা আছে। পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ, পানীয় জল। টেলি–যোগাযোগ আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। বেড়েছে বেতন ভাতার সুবিধা। বিষয়গুলি সামনে এনে মুখ‍্যমন্ত্রী জবাব চাইলেন, কেন গত দু–আড়াই বছর ধরে নির্মাণকাজের গতি কমে যাচ্ছে? বিষয়টি যে মুখ‍্যমন্ত্রী মানিক সরকার নিজেও বুঝতে পারছেন না, স্পষ্টভাবেই ইঞ্জিনিয়ারদের সমাবেশে বললেন।

স্টেটস ইঞ্জিনিয়ার্স অ‍্যাসোসিয়েশনের ৪৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা রবিবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের দু’নম্বর হলে হয়। এই সাধারণ সভার কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ‍্যমন্ত্রী।

রাজ‍্য ও দেশের চলতি পরিস্থিতিও তিনি উদ্বোধনী ভাষণে তুলে ধরেন। পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ‍্য ধীরে ধীরে কীভাবে সামনে উঠে আসছে, সেটাও জানান। ১০–১২ বছর আগেও যোগাযোগ ব‍্যবস্থা ত্রিপুরায় বড় চ‍্যালেঞ্জ ছিল। রাজে‍্যর বড় অংশের জনবসতি এলাকায় গাড়ি নিয়ে যাওয়া যেত না। জল–বিদু‍্যৎ ছিল না। বহু দূর থেকে মাথায় করে ইট–বালি–সিমেন্ট নিয়ে রাস্তাঘাট, স্কুলবাড়ি করতে হয়েছে। এখন সেই ধরনের পরিস্থিতি নেই। রাজে‍্য যানবাহনের সংখ‍্যা ৩ লাখ।

সব কিছু ভাবনায় রেখে মুখ‍্যমন্ত্রীর দাবি, কাজের গতি দ্বিগুণ–তিনগুণ হওয়ার কথা। অথচ স্লো হচ্ছে। কেন এমন হবে? জবাব চান তিনি। গত বেশ কয়েক বছর ধরেই স্থানীয় সংস্থার জনপ্রতিনিধিরা কাজের গতি কমে যাওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেন। ব্লকে–পঞ্চায়েতে বেশ বিতর্ক চলত স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে। সময়ের কাজ সময়ে না শেষ করা নিয়েও চর্চা ছিল। একদিকে মানুষ সময়ে পরিষেবা পেতেন না, অন‍্যদিকে নির্মাণ খরচও বরাদ্দ থেকে অনেক বেশি হত।

এদিন রাজে‍্যর বড় অংশের ইঞ্জিনিয়ারদের সামনেই এই অসন্তোষের কথা জানালেন মুখ‍্যমন্ত্রী। সাফ জানালেন তিনি, দু–আড়াই বছর ধরে কাজের গতি কমছে। এটা রাজে‍্যর অগ্রগতির ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ। গতি বাড়াতে হবে।

মুখ‍্যমন্ত্রী যখন রবিবার রবীন্দ্র ভবনের সভায় কথাগুলো বলছিলেন, তখন হলে বসার একটি আসনও খালি নেই। বাইরে তখনও দঁাড়িয়ে আরও দেড়–দুশো ইঞ্জিনিয়ার। নিজের দিক থেকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে মুখ‍্যমন্ত্রী জানতে চাইলেন, সরকারের কোনও নিয়ম কি বাধা তৈরি করছে? একটু থেমে নিজেই জবাব দিলেন। বললেন, জায়গায় দঁাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিন। এই স্বাধীনতা আপনাদের দেওয়া আছে। এভাবেই রাজে‍্যর এত উন্নয়নের কাজ আপনাদের হাত ধরে হয়েছে। কাজ করতে গেলে ভুল হয়। ১০টা কাজে দু–একটা ভুল হতেই পারে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করলে ভুল হলেও যে রাজ‍্য সরকার সমালোচনা করে না, সেটা মনে করিয়ে দেন মুখ‍্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কাজ করুন। স্পটে দঁাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিন। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত না হলে ভুলের জন‍্য কারও ওপরে ওঠা আটকাবে না সরকার। রাজে‍্যর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও খোলা আলোচনা করেন মুখ‍্যমন্ত্রী। চতুর্দশ অর্থ কমিশন কেন্দ্রীয় করের অংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪১ করেছে। সাধারণ হিসেবে রাজ‍্য বেশি টাকা পেয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ কমিশন পরিকাঠামোর জন‍্য অতিরিক্ত যে টাকা দিত তা বন্ধ করে দিয়েছে।

হিসেব দিয়েই মুখ‍্যমন্ত্রী বলেন, যা পাচ্ছিলাম, যা বেশি পেলাম তা থেকে ১ হাজার ৭০০ কোটি কম। রাজে‍্যর চলতি বছরের বাজেট ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকার কিছু বেশি। বেতন ভাতা–সহ ৬৭ ভাগ দায়বদ্ধ খরচ।বাজেটের ‘সাইজ’ রক্ষা করাই কঠিন বলে জানান মুখ‍্যমন্ত্রী।

দুপুরের পর ইঞ্জিনিয়ারদের সাধারণ সভায় বক্তব‍্য পেশ করেন পূর্তমন্ত্রী বাদল চৌধুরি। রাজ‍্য সরকারের চলতি পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

বক্তব‍্য পেশ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে এল দে এবং সভাপতি রঞ্জন ভৌমিক।