বৃহস্পতিবার, ১৪ই জুন, ২০১৮

পথশিশুরা যেখানে সম্পাদক-সাংবাদিক

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
জানুয়ারি ২, ২০১৬
news-image

পত্রিকার নাম ‘বালকনামা’। তিন মাসে একবার বের হয়। ব্রডশিটের ওই সংবাদপত্রের দাম দুই রুপি। সার্কুলেশন পাঁচ হাজার ছুঁয়েছে। ‘বালকনামা’ ভারতের নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত হয়। সম্পাদনা করেন চাঁদনি নামে ১৮ বছরের এক কিশোরী। সে পথেই বড় হয়েছে। বলে রাখা দরকার ‘বালকনামা’র সম্পাদক থেকে শুরু করে সাংবাদিক ও বিলিবন্টনকারীরা সবাই পথশিশু।

বিবিসি জানিয়েছে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পথশিশুরা ত্রৈমাসিক এ পত্রিকা বের করছে। নিজেদের দুঃখ, কষ্ট, সাফল্য, হতাশা, দাবি সবকিছুর কথা তারা ‘বালকনামা’য় প্রকাশ করে। ‘চেতনা’ নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পথশিশুদের পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করে। ‘চেতনা’ই পথশিশুদের সংবাদ লেখা, সম্পাদনা, প্রকাশের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এরপর ‘বালকনামা’ চলছে পথশিশুদের হাত ধরেই। ভারতে এক কোটি পথ শিশু ও শ্রমজীবী শিশুর বসবাস।

Balaknama-india-1-1সম্পাদক চাঁদনি জানিয়েছে, এ মুহূর্তে ১৪ জন প্রতিবেদক দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ ও মধ্য প্রদেশে কাজ করছে। প্রতিবেদকরা ফোনের মাধ্যমে খবর পাঠায়। দিল্লির ছোট্ট দপ্তরে অন্য প্রতিবেদকরা তা শুনে লিখে নেয়। কেননা ইমেইল বা ফ্যাক্স করার মতো অবস্থা ওই শিশুদের নেই।

চাঁদনি প্রতিমাসে দুইবার পত্রিকার লোকজনদের নিয়ে বসে। যাকে বলা হয় সম্পাদকীয় বৈঠক। আলোচনা করেই ঠিক করে নেওয়া হয় পরবর্তী সংখ্যায় কী কী যাবে।

চাঁদনি বলেন, ‘পত্রিকাটি সম্পাদনা করে আমি গর্বিত। যাদের শৈশব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যারা খেতে পায় না, ভিক্ষা করে, নিগৃহের শিকার হয়, জোর করে যাদের কাজে পাঠানো হয় এসব শিশুরাই নিজেদের মতোই যাদের ভাগ্যবরণকারীদের নিয়ে লিখছে।’
Balaknama-india-3-1শান্নু নামে এক কিশোরী পত্রিকার একজন প্রতিবেদক। শান্নু বলে, ‘আমরা দিল্লিতে একটি সাধারণ জরিপ করেছিলাম। সেখানে গত নভেম্বর মাসে এক হাজার ৩২০ জন পথশিশু ও শিশু শ্রমিক পেয়েছি।’ সে আরো বলে, ‘এ কাজটির মাধ্যমে আমরা সরকার ও পুলিশকে বলতে চেয়েছি ইচ্ছে করলেই পথশিশু ও শিশু শ্রমিকের সংখ্যা কত তা বের করা সম্ভব।’

‘বালকনামা’র আরেক প্রতিবেদক শম্ভু। শম্ভু বলে, ‘শিশু শ্রমিকদের কর্মস্থলে গিয়ে আমরা ওদের সঙ্গে কথা বলি। অনেক সময় মালিকরা আমাদের কাজে বাধা দেয়। আমরা বলি বেশি সমস্যা করলে হেলপলাইনে ফোন করব।’

চাঁদনি নামে অন্য এক প্রতিবেদক বলে, “আমরা চাই ‘বালকনামা’র প্রচার সংখ্যা আরো বাড়ুক। লাভজনক হোক। পৌঁছে যাক আরো দূরে। এটা আমাদের কণ্ঠ।’ চাঁদনি জানাল, মূল বিষয় এটাই।

‘বালকনামা’ যত দূর যাবে তত দূর যাবে পথশিশু, মেহনতি শিশু, কষ্ট পাওয়া শিশুদের কণ্ঠ।