সোমবার, ১১ই জুন, ২০১৮

বাংলাদেশের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে ত্রিপুরা

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
জানুয়ারি ৯, ২০১৬
news-image

প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিট ৮ আমেরিকান সেন্ট (ভারতীয় টাকায় সাড়ে ৫ টাকার মতো) হিসাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে ত্রিপুরা। রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী মানিক দে’র নেতৃত্বের ভারতীয় প্রতিনিধিদল শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে বৈঠকে এই দর চূড়ান্ত হয়। দুই পক্ষ এই ব্যাপারে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। পালাটানার দ্বিতীয় ইউনিট থেকে থেকে আপাতত ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করা হবে। আগামী মাস থেকেই বিদ্যুৎ যেতে শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এই সেই বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেটি তৈরি করার সময় ২০১১ সালে টার্বাইন সহ ভারী যন্ত্র পাতি বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ট্রানশিপমেন্ট হিসেবে আগরতলায় নেয়া হয়। ১৪টি চালানে ওই বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই মালামাল পরিবহণ করা হয়। তখনই ‘প্রতিদান’ হিসেবে এই কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে বিক্রির প্রতিশ্রæতি দিয়েছিল ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। গতবছরের ১৬ ডিসেম্বর এই বিদ্যুৎ আমদানি শুরুর কথা থাকলেও মূল্য নির্ধারণী জটিলতায় তা আটকে যায়। ফলে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) সই করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ গত ২৭ ও ২৮ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে দুইদেশের বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় জানানো হয়েছিল, ত্রিপুরার প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ভারত প্রথমে ৯ সেন্ট চেয়েছিল। পরে তারা আট সেন্টে রাজি হয়। বাংলাদেশ প্রতি ইউনিটের জন্য ৬ সেন্ট দিতে চেয়েছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত শনিবারের বৈঠকে এটি ৮ সেন্টে নির্ধারিত হয়।

প্রসঙ্গত, ভারতের পশ্চিমাঞ্চল অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর হয়ে বাংলাদেশে ৫০০ মেগাগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রি করা হয়। এই বিদ্যুতের ২৫০ মেগাওয়াট যাচ্ছে সরকারি খাত থেকে। এর দাম পড়ছে প্রতি ইউনিট সাড়ে চার সেন্ট। অন্য ২৫০ মেগাওয়াট বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির কাছ থেকে যাচ্ছে; যার দাম পড়ে সাড়ে পাঁচ সেন্ট। সে হিসেবে পালাটানার জন্য সর্বোচ্চ দামই নির্ধারণ করা হয়েছে।

পালাটানা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য এরই মধ্যে সুর্যমণি নগর থেকে বাংলাদেশের কুমিল্লা ত্রিপুরা সীমান্ত পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন স্থাপন করেছে পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (পিজিসিআইএল)। আর বাংলাদেশের ভেতরে আরো ৪৭ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করেছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।

পালাটানার বিদ্যুত বাংলাদেশে বিক্রির জন্য গত ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবসের দিন রাজ্যের সূর্যমণিনগর থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ কুমিল্লা পর্যন্ত পরিবাহী লাইন পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর আমন্ত্রণে এই বৈঠকে যোগ দিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা আসেন ত্রিপুরা রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী মানিক দে’র নেতৃত্বে ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তারা আগরতলা-আখাউড়া স্থলবন্দর সীমান্ত পথে ঢাকায় পৌঁছেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান সচিব এস কে রাকেশ, ত্রিপুরা বিদ্যুতের সিএমডি শ্যামল রায়, এজিএম মহানন্দ দেববর্মা।

ঢাকা ব্যুরো
নিউজটাইম কলকাতা ডট কম।