সোমবার, ১১ই জুন, ২০১৮

সুনন্দার মৃত্যু ‘অস্বাভাবিক’, জানাল এফবিআই: জেরা হতে পারে শশীকে

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
জানুয়ারি ১৫, ২০১৬
news-image

সুনন্দা পুষ্কর মৃত্যুরহস্যে নতুন মোড়! দু’বছর আগে বিষেই মৃত্যু হয়েছে শশী তারুরের প্রাক্তন স্ত্রীর। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই-এর রিপোর্ট পর্যালোচনার পর আজ দিল্লি পুলিশ ঘোষণা করে দিল, সুনন্দার মৃত্যু ‘অস্বাভাবিক’।

এর ফলে নতুন করে চাপ বাড়ল কংগ্রেসের নেতা শশী তারুরের। নতুন করে তাঁকে জেরা করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি দিল্লি পুলিশ। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি দিল্লির চাণক্যপুরীর এক অভিজাত হোটেলে উদ্ধার হয়েছিল সুনন্দার দেহ। ময়নাতদন্ত থেকে ভিসেরা রিপোর্ট ঘিরে গত দু’বছর ধরে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য উত্তরোত্তর ঘনীভূত হয়েছে। এইমসের চিকিৎসকেরা সুনন্দার পাকস্থলীতে বিষের সন্ধান পেয়েছিলেন। এর পর ওয়াশিংটনে এফবিআই-এর কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়। সেই রিপোর্ট ফের পর্যালোচনা করে এইমস আজ দিল্লি পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তার পর দিল্লির পুলিশ কমিশনার বি এস বাসসি ঘোষণা করেন, সুনন্দার মৃত্যু আদৌ স্বাভাবিক নয়। এবং সেটি নিশ্চিত করেই বলা যায়।

কিন্তু প্রথমে ধরে নেওয়া হয়েছিল, পোলোনিয়াম নামে একটি বিষ ইনজেকশনের মাধ্যমে সুনন্দার শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছিল। পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও তা বলা হয়েছিল। বাইরে থেকে এর কোনও প্রভাব দেখা যায় না। কিন্তু শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে এই বিষ ছড়িয়ে যায়। কিন্তু দিল্লি পুলিশ সূত্রের মতে, সে ধরনের তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণে সুনন্দার মৃত্যু হয়নি। এফবিআই-ও সেই সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু সুনন্দার মৃত্যু হয়েছে দু’টি রাসায়নিক পদার্থের সংমিশ্রণে। দিল্লি পুলিশ সেই দু’টি রাসায়নিকের নাম খোলসা করেনি। কিন্তু সূত্রের মতে, সেই রাসায়নিক বিষক্রিয়া বাইরে থেকে তাঁর শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছে, না কি অন্য ভাবে ওযুধের মধ্যে প্রবেশ করেছে, সেটি তদন্তসাপেক্ষ। এটি কি তা হলে হত্যা না আত্মহত্যা, সব দিকই খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ। সাধারণত, ত্বক চকচকে করার জন্য বোটক্স নামে একটি ইনজেকশন ব্যবহার করতেন সুনন্দা। কিন্তু তাতে মারা যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তা হলে কি অন্য কোনও ওযুধ না কি ইনজেকশনে সুনন্দার মৃত্যু হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখার জন্য দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার (আইনশৃঙ্খলা) দীপক মিশ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর পর কি ফের শশী তারুরকে জেরা করা হবে? সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে দিল্লির পুলিশ কমিশনার জানান, ‘‘গোটা রিপোর্টটি খতিয়ে দেখার পরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’ এ দিকে চেন্নাইতে একটি সাহিত্য সম্মেলনে আজ যোগ দিতে দেখা যায় শশী তারুরকে। তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূও সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত লোকেরা তারুরকে মাথায় বরফ দিতেও দেখেন। কিন্তু সুনন্দা সম্পর্কে প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান। আগামিকাল ফের এই সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। গত বছরই দিল্লি পুলিশ খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। সেই সময় চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তারুরকে জেরা করা হয়। পলিগ্রাফ পরীক্ষা করা হয় তারুরের সঙ্গীকেও। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী অবশ্য দাবি করেছেন, সুনন্দাকে হত্যাই করা হয়েছে। সামনের সপ্তাহেই তিনি আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করবেন। স্বামীর মতে, সুনন্দা এমন কিছু তথ্য জেনে ফেলেছিলেন, যেটি প্রকাশ্যে এলে শশী তারুরের রাজনৈতিক জীবন ‘শেষ’ হয়ে যেত।

আইপিএল দুর্নীতির জেরেই একসময় বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর পদ খোয়াতে হয়েছিল তারুরকে। তারুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, আইপিএলে দল কেনার ক্ষেত্রে মন্ত্রী হিসেবে প্রভাব খাটিয়েছিলেন তিনি। সুনন্দার সঙ্গে তখনও তাঁর বিয়ে হয়নি। কিন্তু সুনন্দার সংস্থাকে অংশীদারিত্ব তারুর পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ। নতুন তথ্য হাতে নিয়ে পুলিশ এ বারে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। তবে দিল্লি পুলিশের এক সূত্রের মতে, সব দিক খতিয়ে দেখার পর যদি কোনও প্রমাণ হাতে পাওয়া না যায়, তা হলে ক্লোজার রিপোর্ট পেশ করার কথাও ভাবতে পারে পুলিশ।