সোমবার, ১১ই জুন, ২০১৮

ভোটের আগে বহিষ্কৃত আরাবুলকে দলে ফেরাল তৃণমূল

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
জানুয়ারি ২০, ২০১৬
news-image

Arabul-s

ভাঙড় (দক্ষিণ ২৪ পরগনা): ভোটের মুখে আরাবুল ইসলামকে দলে ফিরিয়ে নিল তৃণমূল। বুধবার ভাঙড়ে দলীয় কর্মীসভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তৃণমূলের দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সভাপতি শোভন চট্টোপাধ্যায়। মঞ্চেও ডেকে নেন আরাবুল ইসলামকে।

বছর দেড়েক আগে তৃণমূল কংগ্রেস ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙরের নেতা আরবুল ইসলামকে। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে সেই শাস্তি প্রত্যাহার করে নিল দল। মঙ্গলবার কলকাতার মেয়র তথা তৃণমূলের দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সভাপতি শোভন চট্টোপাধ্যায় সেই ঘোষণা করলেন আরাবুলকে পাশে নিয়ে।

ভাঙড়ের ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি হলেও রাজারহাট, নিউটাউনের মতো এলাকায় তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল। ২০১৪-য় ভাঙড়ে দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে দুই কর্মী খুন হয়। খুনের মূল অভিযুক্ত আরাবুল হলেও তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করছে না বলে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন মৃতের পরিবার। এর পর একপ্রকার চাপের মুখে পড়েই ভাঙরের আরাবুলের ডানা ছাঁটতে বাধ্য হয় শাসকদল। ২০১৪-র ২৮ অক্টোবর ভাঙড়ের এই প্রাক্তন বিধায়ককে ছ’বছরের জন্য বহিষ্কার করে তৃণমূল। কিন্তু ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরানো হয়নি। এলাকায় তাঁর দাপটও কমেনি। এবার সেই বহিষ্কারের সাজাও উঠে গেল ভোটের আগেভাগেই।

২০১৪ সালের শেষের দিকে, ভাঙড়ে জোড়া খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল আরাবুলের। তার আগে অবশ্য নানা বিতর্কে জড়িয়ে তিনি বার বার দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছিলেন। সম্পদ ক্রমশ বোঝা হয়ে উঠতেই তাঁকে দল থেকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল শাসক দল। ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল তাঁকে। তা হলে দেড় বছর যেতে না যেতেই তাঁকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হল কেন? আরাবুল থাকলে গায়ের জোরে ভোট করতে সুবিধা হবে বলে? প্রশ্ন বিরোধীদের।

Arabul-back-insdতৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে বার বার বিতর্ক তৈরি করে শিরোনামে এসেছেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম৷ কখনও কলেজে ঢুকে অধ্যাপিকাকে জলের জগ ছুড়ে মারার অভিযোগ, তো কখনও আবার ভাঙড়ে দলীয় পার্টি অফিসের মধ্যে ঢুকে দলেরই নেতা-কর্মীদের মারধরের অভিযোগ। ভাঙড়ে রেজ্জাক মোল্লাকে মারধর এবং বামনঘাটায় সিপিএমের মিছিলে হামলার ঘটনাতেও অভিযোগের আঙুল উঠেছিল আরাবুল ইসলামের দিকে৷ এর জেরে তাঁকে হাজতবাসও করতে হয়।

বছর দুয়েক আগে, ভাঙড়ের নারায়ণপুর হাইস্কুলে উচ্চমাধ্যমিকের ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন অনুমতি ছাড়াই পরীক্ষাকেন্দ্রে আচমকা ঢুকে পড়েছিলেন আরাবুল ইসলাম৷ সেন্টার-ইন-চার্জ অভিযোগ করেছিলেন, পরীক্ষার্থীদের উত্তর বলে দিতে পরীক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি৷ এর কয়েক মাস পরেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড়। পনেরো মিনিটের ব্যবধানে মৃত্যু হয়েছিল দু’জনের। এক্ষেত্রেও অভিযোগের তির ছিল আরাবুল-অনুগামীদের দিকে। গত বছর এপ্রিল মাসে রাজারহাটে তোলা না পেয়ে সদলবলে খুনের চেষ্টার অভিযোগেও ফের হাজতবাস করতে হয় আরাবুলকে।

রাজ্যে পালাবদলের আগেও অবশ্য আরাবুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে৷ দু’হাজার নয় সালে বৈদিক ভিলেজকাণ্ডে উঠে এসেছিল আরাবুলের নাম৷ তাঁর ভাই আজিজুলও বৈদিক ভিলেজকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত৷ ২০০৬ সালে, লেদার কমপ্লেক্স থানার ওসি-কে মারধর করারও অভিযোগ উঠেছিল আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলছে, তৃণমূলে তো আরাবুল, অনুব্রত, মনিরুলরাই সম্পদ। তাই ভোটের আগে আরাবুল ইসলামের এ ভাবে ঘর ওয়াপসি।