সোমবার, ১১ই জুন, ২০১৮

ধোনি হঠাও, দেশ বাঁচাও ধ্বণি উঠল বলে!

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
জানুয়ারি ২০, ২০১৬
news-image

একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারতে হয়েছে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ভারতকে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও একই ছবি। অজিরা নাককান মুলে হারিয়েছে ধোনি-ব্রিগেডকে। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টানা চারটি ম্যাচে বিধ্বস্ত হতে হয়েছে ভারতকে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম দু’টি ওয়ানডে-তে তিনশোর বেশি রান করেও হতশ্রী বোলিংয়ের জন্য হারতে হয়েছে ভারতকে। তৃতীয় একদিনের ম্যাচে তিনশোর কমে থমকে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের দাপটে সেই ম্যাচ নিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ ওয়ানডে-তেও একই ছবি। ভারতীয় বোলারদের প্রহারেণ ধনঞ্জয় দেখিয়ে অজিরা পাহাড়প্রমাণ ৩৪৮ রানের বোঝা চাপায় ভারতের উপরে। জবাবে ভারতীয়রা থমকে যায় ৩২৩ রানে। বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান শতরান হাঁকালেও, তাতে লাভের লাভ হয়নি। ভারতের হারের অব্যবহিত পরেই টুইটারে ঝড় ওঠে। ভারত-সমর্থকদের টুইট-বোমা, ‘‘ভারতীয় টেল-এন্ডাররা এবার প্লিজ অবসর নাও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার একেবারেই উপযুক্ত নও তোমরা।’’

ঘরের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার, অস্ট্রেলিয়াতেও তাই। তার আগে বাংলাদেশেও হেরেছে ভারত। প্রশ্ন উঠেছে, কোন পথে এগোচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট?

টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। তাঁর জায়গায় দলীয় নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড উঠেছে বিরাট কোহলির হাতে। ঘরের মাঠে কোহলি টেস্ট-সিরিজ জিতেছেন। তবে কি এবার ওয়ানডে-র রাজ্যপাট কোহলির হাতে ছেড়ে দেওয়ার সময় এসেছে? প্রাক্তন ক্রিকেটার অজিত ওয়াদেকরকে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বলছেন, ‘‘কোহলি টেস্টে ভালই নেতৃত্ব দিয়েছে। তবে এখনই ধোনিকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী আমি নই। ওর বয়স এখন ৩৪। ওর হাতে যা দল দেওয়া হচ্ছে, সেই দল নিয়েই মাঠে নামছে। বোলাররা যদি মাঠে নেমে পারফরম্যান্স দিতে না-পারে, তাহলে অধিনায়ক কী করবে?’’ পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াদেকর।

কিন্তু সমর্থকরা তো আর ধৈর্য্য রাখতে পারছেন না। প্রিয় দল খেলতে নামছে আর হারছে। এটাই হয়ে গিয়েছে দস্তুর। সামনেই কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বোলার নেই দলে। কে জেতাবেন? পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচে তিনশোর বেশি রান তুলেও ভারত ম্যাচ জিততে পারছে না।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাহলে তো অবধারিত পা পিছলোবে? প্রাক্তন ক্রিকেটারদের বক্তব্য, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আর ওয়ানডে এক জিনিস নয়। কিন্তু সমর্থকরা তো তা বোঝেন না। বুঝবেনও না। তাঁরা চান প্রিয় দল জিতুক। ভারত জিতলে সমর্থকরা আনন্দ পান, মুখের হাসি চওড়া হয়। আর হারলে ভিতরটা রক্তাক্ত হয়। দলের হার কে আর দেখতে চায়? এখনও ধোনি হঠাও, দল বাঁচাও স্লোগান ওঠেনি। খুবই মৃদু স্বরে ভক্তরা ধ্বনি তুলেছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলেই তা হবে। ধোনি কি তা বুঝতে পারছেন?