বুধবার, ১৩ই জুলাই, ২০১৬

তৃণমূল-মমতা বিরোধীদের একপক্ষে চায় সিপিএম

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬
news-image

গত ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম বিরোধী ভোটের পূর্ণ মেরুকরণ করে বাজিমাত করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মমতার সেই কৌশলেই এ বার তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে চাইছে সিপিএম৷

সাঁকরাইলের জনসভা থেকে সূর্যকান্ত মিশ্র কংগ্রেসের উদ্দেশে খোলাখুলি জোটের বার্তা দিয়ে আদতে তৃণমূল বিরোধী ভোটের সম্পূর্ণ মেরুকরণের পথই প্রশস্ত করতে চেয়েছেন৷ কংগ্রেস হাইকম্যান্ড জোট করতে গররাজি হলেও তৃণমূল বিরোধী ভোটের মেরুকরণ যাতে অব্যাহত থাকে তার জন্যই পরিকল্পিত ভাবে জনসভার মঞ্চ থেকে জোট -বার্তা দিয়েছেন সূর্য৷ উদ্দেশ্য আমজনতার মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে তৃণমূলকে হারানোর জন্য বিরোধীদের মধ্যে সিপিএম -ই সর্বাধিক উদগ্রীব৷ কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যে যখন নানা মুনির নানা মত , বিজেপি যখন তৃণমূলকে উত্খাত করতে কতটা আগ্রহী এই সংশয় তৈরি হয়েছে , সেই পরিমণ্ডলে বামেরা মমতাকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ এই বার্তা দিতে চাইছেন সিপিএম নেতৃত্বে৷

প্রকাশ্যে কংগ্রেস নেতা মানস ভুঁইয়া সূর্যকান্তর জোট -বার্তাকে সিপিএমের ‘দৈন্যের প্রতিফলন ‘ বলে খোঁচা দিলেও সিপিএম রাজ্য সম্পাদক যে কুশলী চাল দিয়েছেন তা ঘরোয়া আলোচনায় অস্বীকার করছেন না প্রদেশ কংগ্রেসের একাধিক নেতা৷ এমনই এক নেতার কথায় , ‘জোট না হলে সিপিএম প্রচার করবে তৃণমূলকে হারাতে চায় না কংগ্রেস৷ ‘ যার ফলে কংগ্রেসের মধ্যে থাকা কট্টর মমতা বিরোধী অংশের ভোট যেখানে বাম প্রার্থী তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ সেখানে বামেদের দিকে ঝুঁকে যাবে৷ সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের ব্যাখ্যা , ‘পশ্চিমবঙ্গের পটভূমিতে গত লোকসভা ভোট এবং আসন্ন বিধানসভা ভোটের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল এ বার রাজ্যের জনতা দুই শিবিরে ভাগ হয়ে যাবে৷ মমতা -বিরোধী জনতার কাছে বামেরা হবে একমাত্র বিকল্প৷ ‘কেন বামেরা বিকল্প হবে তার ব্যাখ্যা মিলছে সিপিএম নেতৃত্বের কাছ থেকে৷ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এই সদস্যর যুক্তি , ‘লোকসভা ভোটের সময় আমজনতার কাছে কেন্দ্রে সরকার গঠনের বিষয়টি ছিল প্রধান ভাবনা৷ কেন্দ্রে সরকার গড়ার জায়গায় বামেরা নেই তা আমজনতা জানত৷

মোদী কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেন এই ধারণা তৈরি হওয়ায় এই রাজ্যে বহু মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে৷ ‘ বাম নেতৃত্বের অঙ্ক হল , এই বিধানসভা নির্বাচনে বামেরাই তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ৷ রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ার জায়গায় নেই৷ তাই যাঁরা লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে তাঁদের বড় অংশ বামেদের ভোট দেবে৷ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং আরএসএস নেতৃত্বের সাম্প্রতিক একাধিক পদক্ষেপ রাজ্যের বিজেপির কর্মী ও সমর্থকদের কাছে এই বার্তা গিয়েছে যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের থেকে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনকেই তাঁরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন৷ বিজেপি মমতাকে হঠাতে কোমর বেঁধে নামছে না , এই বার্তায় নিচুতলায় বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পরে বলে মনে করছেন সিপিএম নেতৃত্ব৷ এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল বিরোধী জনতার মেরুকরণে বিজেপি সমর্থকদের একাংশ সামিল হতে পারে৷ তাই প্রকাশ্যে সূর্যকান্তের কংগ্রেসের প্রতি জোট আহ্বান কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয় , সুপরিকল্পিত চাল৷ যাতে তৃণমূল বিরোধী ভোটের মেরুকরণ আরও গতি পায়৷ সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে রীতিমতো আলোচনা করে প্রকাশ্যে কংগ্রেসের নাম করে জোট বার্তা দিয়েছেন সূর্য৷

সাঁকরাইলের জোট -বার্তা নিয়ে ইতিমধ্যে কংগ্রেস , তৃণমূল ও বিজেপি সব দলের নেতারা মুখ খুলেছেন৷ জোট প্রক্রিয়ায় জল মাপতে সুবিধা হয়েছে সিপিএম নেতৃত্বের৷ বুধবার সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী দীর্ঘ বৈঠক করেছে জোট প্রক্রিয়ার পরবর্তী কৌশল নিয়ে৷ সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যর কথায় , ‘সূর্যকান্ত মিশ্রের ওই বার্তার পর কংগ্রেস ও সিপিএম জোট হলে তৃণমূল কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে পারে , আমজনতার মধ্যে এই জল্পনা শুরু হয়েছে৷ মমতাকে হারাতে বামেরাই যে মূল চালিকা শক্তি তা ফের জনমানসে উঠে আসছে৷ কংগ্রেসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট না হলেও বামেদের পাশেই রাজ্যে তৃণমূল বিরোধী সমস্ত মানুষ আসবে৷’