বুধবার, ১৩ই জুলাই, ২০১৬

আধ্যাত্মিক বইয়ের স্টলেই ভরা মেলা

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬
news-image

সাবেরী প্রামাণিক

বইয়ের সম্ভার, লিট্ল ম্যাগাজিন, খাবার-দাবার, গানবাজনা আর সেই সঙ্গে ফেলে আসা পথের দিকে ফিরে তাকাতে ‘হেরিটেজ ওয়াক’- চেনা-অচেনা নানা অনুষঙ্গে বুধবার সরকারি ভাবে শুরু হল এ বছরের কলকাতা বইমেলা৷ বিষয় বৈচিত্র্য থেকে স্টলের সংখ্যা- কোনও কিছুতেই খামতি নেই ৪০ বছরে পা দেওয়া এই মেলার৷ তবে চত্বরে চক্কর কাটলে একটা বিষয় নজর কাড়বেই- মেলায় আধ্যাত্মিকতার প্রভাব যেন একটু বেশিই৷

এক দিকে স্বামী বিজয়ানন্দ, অন্য দিকে দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেব৷ কোথাও রামকৃষ্ণ মিশন, কোথাও মহানামব্রত ব্রহ্মচারী, কোথাও আবার স্বামী প্রণবানন্দ ও ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ৷ বইমেলার চত্বর জুড়ে কার্যত রাজত্ব করছেন এই আধ্যাত্মিক গুরুরা, মেলা জুড়ে তাঁদের আশ্রমের স্টল৷ যদিও আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি স্বাস্থ্য থেকে বন্যপ্রাণ–নানা বিষয়ের বইয়েও পাঠকদের আগ্রহ কম নয়৷ যেমন তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’-র স্টলে রাজনীতির ভরা সম্ভারের পাশেই পশু-পাখি, গাছপালা বিষয়ক বইয়ের স্টল ‘এখন আরণ্যক’, বালিগঞ্জের ‘বন্যপ্রাণ’৷ এ সব স্টলেও ভালোই ভিড়৷ বই বিক্রির সঙ্গেই চলছে সদস্য সংগ্রহের কাজ৷ আর চির-চেনা চ্যাঙা-ব্যাঙা, তুতু-ভূতু, ঠাকুরমার ঝুলি বা অমর চিত্রকথার স্টলে উত্সুক ক্রেতাদের উঁকিঝুঁকি তো আছেই৷

এ বারের বইমেলায় মোট স্টলের সংখ্যা ৮০০৷ এর মধ্যে ২০০টি লিট্ল ম্যাগাজিনের৷ সে সবের মধ্যেই ঝাঁকে ঝাঁকে আধ্যাত্মিক বইয়ের স্টল৷ ব্যাপারটা কী? পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের তরফে ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এক-এক জায়গায় স্টলগুলি তৈরি হয়েছে বলে চোখে পড়ছে৷ প্রতি বারই এমন নানা বিষয়ের স্টল বইমেলায় থাকে৷ সব ধর্মের, সব বিশ্বাসেরই বইয়ের সমাহার ঘটে এখানে৷’

ত্রিদিব যা-ই বলুন, এ ধরনের নতুন স্টলেরও খোঁজ মিলল৷ যেমন, নাকতলার শ্রীগুরু সঙ্ঘ৷ বুধবার সরকারি ভাবে মেলা শুরু হলেও মঙ্গলবারই সঙ্ঘের কয়েক জন পদাধিকারীকে দিয়ে স্টলের উদ্বোধন সেরে ফেলেছেন ওঁরা৷ সঙ্ঘের তরফে দীপক কর্মকার বলেন, ‘গুরুদেবের আদর্শ সবার সামনে তুলে ধরতে, নিজেদের কাজকর্ম প্রচার করতে এর চেয়ে ভালো জায়গা আর কী হতে পারে! তাই বইমেলায় স্টল দেওয়া৷’ বইমেলায় স্টল দিলে যে নিজেদের বক্তব্য প্রচার সহজ হয়, সে কথা বলছেন অন্যান্য আশ্রমের তরফে আসা বিক্রেতারাও৷ অল্পবয়সী ক্রেতাদের টানতে তাঁদের মন বুঝে বইগুলি লেখাও হচ্ছে নতুন ভাবে৷

সপ্তাহের মাঝে, মেলার শুরুর দিনেই ভিড়, কেনাকাটার হিড়িক যে তেমন থাকবে না–সেটাই স্বাভাবিক৷ অনেক স্টল এখনও তৈরি হচ্ছে৷ তবে মঙ্গলবার, প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটিতে আধা-প্রস্ত্তত মেলা দেখতে আড়াই থেকে তিন লক্ষ মানুষের ভিড় জমেছিল বলে জানান ত্রিদিব৷

সেই ১৯৭৫-এ কফি হাউসে গিল্ড অফিসের যাত্রা শুরু থেকে প্রথম মেলা, ক্যালকাটা বুক ফেয়ার থেকে কলিকাতা পুস্তকমেলা হয়ে ওঠা, আগুন লেগে মেলার বহু স্টল পুড়ে যাওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে ৪০ বছরের দীর্ঘ যাত্রাপথকে ছোট ছোট বোর্ডে এ বার তুলে ধরা হয়েছে ‘হেরিটেজ ওয়াক’-এ৷ থিম প্যাভিলিয়ন ‘বলিভিয়া’তেও গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে আলোচনার আয়োজন হচ্ছে৷

বলা হয়, দুর্গাপুজোর পরে কলকাতার অন্যতম বড় অনুষ্ঠান এই বইমেলা৷ প্রস্ত্ততি শেষ, এখন অপেক্ষা কেবল জনস্রোতের৷