বুধবার, ১৩ই জুলাই, ২০১৬

ইঞ্জিনিয়রের রহস্যমৃত্যু: হতের বন্ধুদের বয়ানে অসঙ্গতি

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
জুন ২৩, ২০১৬
news-image

কলকাতা: ম্যাডক্স স্কোয়ারে ইঞ্জিনিয়রের রহস্যমৃত্যুতে নয়া মোড়। বন্ধুদের বয়ানে আরও অসঙ্গতি। মেলেনি পার্ক সার্কাসের রেস্তোঁরার সিসিটিভিতে বিরিয়ানি কেনার প্রমাণ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে শুধু গাড়ির ছবি, নেই গণ্ডগোলের কোনও প্রমাণ। দাবি পুলিশের। নজরে কল রেকর্ড। ঘটনায় সিআইডি বা সিবিআই তদন্তের দাবি পরিবারের।

ইঞ্জিনিয়র রমিত মণ্ডলের রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে পরিকল্পনা দেখতে পাচ্ছেন বাবা। শুক্রবার রাতে রমিতের সঙ্গে ছিলেন তাঁর চার বন্ধু — চিরঞ্জিত্‍ নন্দী, দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য, সুরজিৎ নস্কর এবং শুভজিৎ নস্কর।

যা-ই ঘটে থাকুক, যারাই রমিতকে মেরে থাকুক, একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী এই চার বন্ধু। সূত্রের খোঁজে পুলিশ চারজনকে একসঙ্গে বসিয়ে এবং আলাদা আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাঁদের বয়ানে বেশ কিছু অসঙ্গতি মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।

গাড়িতে রমিত মণ্ডল ছাড়াও ছিলেন তাঁর চার বন্ধু। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তাঁরা দাবি করেছেন, ইএম বাইপাস, পরমা উড়ালপুল হয়ে তাঁরা পার্ক সার্কাসের একটি রেস্তোরাঁয় যান।

কিন্তু পুলিশ সূত্রে দাবি, পার্ক সার্কাসের কোনও সিসিটিভি ক্যামেরায় রমিতদের গাড়ির ছবি ধরা পড়েনি। পার্ক সার্কাস থেকে বিরিয়ানি কিনলেও অবশ্য রমিতরা সেখানে খাননি। বন্ধুদের দাবি, বিরিয়ানি কেনার পর তাঁরা গাড়ি নিয়ে সোজা চলে যান ম্যাডক্স স্কোয়ারে। কিন্তু পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে শুধু গাড়ির ছবি, নেই গণ্ডগোলের প্রমাণ।

বন্ধুদের দাবি অনুযায়ী, রমিত বসেছিলেন গাড়ির পিছনের সিটে ডানদিকে। অর্থাৎ চালকের ঠিক পিছনে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, এই অবস্থায় বাইরে থেকে কেউ আঘাত করলে তো সাধারণত রমিতের মাথার ধারে লাগার কথা। কিন্তু, রমিতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল ঠিক মাঝামাঝি।

এটা কীভাবে সম্ভব? পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, হামলায় ব্যবহৃত হাতিয়ার নিয়েও। রমিতের বন্ধুদের দাবি, ভারী ও ভোঁতা কিছু দিয়ে রমিতকে আঘাত করা হয়। কিন্তু, তদন্তকারীদের প্রশ্ন, ভোঁতা বস্তু দিয়ে মারলে প্রায় ৬ ইঞ্চি গভীর ক্ষতকী হতে পারে? রহস্য বাড়িয়ে রমিতের বাবার দাবি, তাঁর ছেলেকে কোনও ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

সেদিন রাতে তাঁদের বন্ধু রমিতের সঙ্গে কী কী হয়েছিল? ক্যামেরার সামনে না এলেও শেষপর্যন্ত ফোনে মুখ খুলেছেন রমিতের বন্ধু চিরঞ্জিত্‍। ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করেছে রমিতের পরিবারও। তদন্ত চলছে। কিন্তু এখনও উত্তর মেলেনি বহু প্রশ্নের। সত্যিটা জানার পাশাপাশি, দোষীদের কঠোর শাস্তির অপেক্ষায় রমিতের পরিবার।