মঙ্গলবার, ১২ই জুন, ২০১৮

পুরোহিত হত্যায় জামাত নেতার স্বীকারোক্তি

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
জুন ২৩, ২০১৬
news-image

ঢাকা, ২২ জুন: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ঝিনাইদহে পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এনামুল হক (২৫) নামের এক জামাতে ইসলামি বাংলাদেশের পড়ুয়া শাখা ‘ইসলামি ছাত্রশিবির’ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার তাকে আদালতে  তোলা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে সে।

মঙ্গলবার রাতে তাকে আটকের কথা জানান ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন। জামাতের এই পড়ুয়া শাখার কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে পুরোহিতকে হত্যা মিশনে সাতজন বৈঠক করে তিনজন হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়। এদিকে নিহত পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে সরকার। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নগদ এক লাখ টাকা নিহত পুরোহিতের স্ত্রী শেফালী গাঙ্গুলির হাতে তুলে দেন জেলা শাসক মাহবুব আলম।

গত ৭ জুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের মহিষারভাগাড় বিলের রাস্তায় হিন্দু পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী ওরফে নন্দকে (৭০) গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় তিনি বাড়ি থেকে বাইসাইকেলযোগে নলডাঙ্গা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মহিষেরভাগার এলাকায় তাঁকে হত্যা করা হয়।

পুরোহিত হত্যায় জড়িত জামাত নেতা এনামুল ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ড শিবিরের সেক্রেটারি। তিনি সদর উপজেলার আড়মুখ গ্রামের ফজলুল হক জোয়ারদারের ছেলে এবং শহরের হামদহ মোল্লাপাড়ায় বাস করেন। জেলা পুলিশ সুপারি মাহবুব জানান, মঙ্গলবার  রাত দুইটার দিকে ঢাকার গাবতলী থেকে এনামুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার বিকেলে তাকে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম ফাহমিদা জাহাঙ্গীরের আদালতে তোলা হলে সেখানে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পুলিশ সুপার জানান, এনামুল হক জানিয়েছেন, পুরোহিত হত্যা মিশন সফল করতে কেন্দ্রীয় শিবিরের নির্দেশে ঝিনাইদহে সাতজন নেতা বৈঠক করেন। এর মধ্যে তিনজন হত্যার মিশনে অংশ নেন।

পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, পুরোহিত আনন্দ গোপাল হত্যার পর তাঁরা বিভিন্নভাবে হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যার সঙ্গে জড়িত এনামুল হককে সোমবার রাতে ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাবনায় আশ্রমের সেবায়েত হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি: উত্তরাঞ্চলীয় জেলা পাবনার হেমায়েতপুরে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমে উপস্থিত হয়ে গত ১০ জুন ভোরে হত্যা করা হয়। তার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার সকাল ৯টায় পাবনায় জাতীয় গণফ্রন্টের জেলা নেতৃবৃন্দ খুনের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সেই সাথে তার সহকর্মীদেরসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং সৎসঙ্গ আশ্রমের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন ও তাদের দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।