রবিবার, ১০ই জুন, ২০১৮

বাংলাদেশে হিন্দু বেড়েছে ১৫ লাখ, কমেছে মুসলিমরা

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
জুন ২৩, ২০১৬
news-image

ঢাকা, ২৩ জুন: বাংলাদেশ থেকে নির্যাতন, হুমকি ও হত্যার মতো ঘটনায় হিন্দুরা দেশত্যাগী হওয়ার কথা শোনা গেলেও এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫ লক্ষ। ২০১৫ সালের হিসাবে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী। যা, আগের বছর ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এই হিসাবে ১৫ লাখ হিন্দু জনসংখ্যা বেড়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে মুসলিম জনসংখ্যা এক বছরে কমেছে ১ শতাংশ; ২০১৪ সালে যা ছিল ৮৯ দশমিক ২ শতাংশ, ২০১৫ সালে এসে তা দাঁড়ায় ৮৮ দশমিক ২ শতাংশে। বাংলাদেশ সরকারের পরিচালিত এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এই তথ্য প্রকাশ করে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৫ সালের ‘স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস’ বলা হয়েছে, ২০১৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৮৯ লাখ। সেই হিসাবে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৬৮ লাখ। তথন হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৫৫ লাখ। এর মানে, এক বছরের ব্যবধানে হিন্দু জনগোষ্ঠী বেড়েছে প্রায় ১৫ লাখ।

এর আগে বাংলাদেশে সরকারি আদমশুমারি অনুযায়ী বলা হচ্ছিল, হিন্দু জনসংখ্যা প্রতি বছরই কমছে। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় বৈষম্য এবং নির্যাতনের মুখে এদের বেশিরভাগই ভারতে চলে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথ বলেছিলেন, বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যার হার কমছে। তিনি বলেন, ‘১৯৫১ সালে যে আদমশুমারি ছিল, তাতে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ। ১৯৭৪ সালের আদমশুমারিতে এটা নেমে আসে ১৪ শতাংশে। আর সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারিতে এটা নেমে আসে ৮ দশমিক ৪ শতাংশে।’

বিবিএসের সর্বশেষ প্রতিবেদেন অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাও বেড়েছে। মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ১ শতাংশ খ্রিস্টান ও অন্য ধর্মাবলম্বী। ২০১৪ সালে এ হার ছিল দশমিক ৯ শতাংশ। বিবিএস স্যাম্পল ভাইট্যাল স্ট্যাটেসটিকসের মাধ্যমে প্রতিবছর জন্ম, মৃত্যু, আয়ুষ্কাল, বিয়েসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে থাকে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার সাড়ে আট শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

১৯৫১ সালে যে আদমশুমারি ছিল তাতে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ। ১৯৭৪ সালের আদমশুমারিতে এটা নেমে আসে ১৪ শতাংশে। সংখ্যাটি ক্রমাগত কমেছে। এবারই প্রথম বাড়ল।

জরিপে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদে’র সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, বিবিএসের অতীতের আদম শুমারিতে দেখা যায়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ক্রমান্বয়ে কমছে। কিন্তু স্যাম্পল ভাইট্যাল স্ট্যাটেসটিকস প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বেড়েছে; জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে যে ভোটার তালিকায় তৈরি করা হয়েছিল, সেখানেও সংখ্যালঘু ভোটারের অনুপাত এরকমই ছিল। এই দুটি সংখ্যা প্রায় এক রকম। এর অর্থ আদম শুমারিতে সংখ্যালঘুদের হার কম দেখানো হয়েছিল। আমাদের বক্তব্য, সরকারের উচিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করা। ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথ বলেন, এই জরিপের তথ্য যদি সঠিকই হয়ে থাকে, তবে আমার চেয়ে খুশি আর কেউ হবে না।

এ প্রসঙ্গে বিবিএসের এ প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, নমুনা এলাকার ভিন্নতার কারণে তথ্য-উপাত্তের এমন হেরফের হতে পারে। আগের বার (২০১৪) ১৫০০টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার ২০১২টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রায় ৫০০ এর বেশি নতুন নমুনা এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসিনা সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশে রাষ্ট্রসংঙ্ঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের মিশন প্রধান এদোয়ার্দ বেইজবেদের প্রমুখ।