সোমবার, ১১ই জুন, ২০১৮

নারদকাণ্ডে ম্যাথু স্যামুয়েলকে তলব কলকাতা পুলিশের

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
জুন ২৩, ২০১৬
news-image

কলকাতা: স্টিং অপারেশনকাণ্ডে তদন্ত শুরু হয়েছিল আগেই। এবার তারই আওতায় আনা হল নারদ নিউজের সিইও তথা সম্পাদককে। ম্যাথু স্যামুয়েলকে তলব করল কলকাতা পুলিশ!

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারদ নিউজের সিইও-কে ‘কলকাতা পুলিশের আর্থিক অপরাধ দমন শাখা’র তরফে একটি ই মেল পাঠানো হয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে চেষ্টা করেও, স্যামুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তদন্তকারীরা। তাই, ‘নারদ নিউজ ডট কম’ থেকে পাওয়া ই মেলে এই বার্তা পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আর্থিক অপরাধ দমন শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের কাছে স্যামুয়েলকে দ্রুত হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে দেখার জন্যও উল্লেখ করা হয়েছে ই মেলে।
ই-মেলের প্রাপ্তি স্বীকার করে নারদ নিউজের সিইও জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। ম্যাথুর আরও দাবি, ইতিমধ্যেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিমান সফর এবং হোটেল বুকিং সংক্রান্ত নথিপত্রের খোঁজ শুরু করে দিয়েছে পুলিশ।

মার্চ মাসে বিধানসভা ভোটের আগে স্টিং অপারেশনের একাধিক ফুটেজ প্রকাশ করে নারদ নিউজ। এই স্টিং ফুটেজ সামনে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে ঝড় ওঠে। এবিপি আনন্দ অবশ্য এই ফুটেজের সত্যতা যাচাই করেনি। গত সতেরোই জুন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নারদকাণ্ডের তদন্ত করবে রাজ্য সরকার।

এর পরদিনই স্টিং বিদ্ধদের পাশে দাঁড়িয়ে চক্রান্তের অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপর ওইদিন রাতেই নিউ মার্কেট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন মেয়র তথা দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের আগে চক্রান্ত করে, স্টিংয়ের মাধ্যমে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সম্মানহানি করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মানহানি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ ৫টি ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। যদিও সরকারের এই তদন্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, মামলার সব ধারাই তো ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি, প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসার! যে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী তুলেছেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর চক্রান্তের তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করাই কি তদন্তের উদ্দেশ্য?

এই বিতর্কের মধ্যেই গত সোমবার সরকারের নারদ-তদন্তের বৈধতা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। যার প্রেক্ষিতে, প্রধান বিচারপতি বলেন, কে কী বলছে, বা কে কী করছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আদালতের নির্দেশই শেষ কথা বলবে। নির্দেশ নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ থাকলে, আদালতের পথ সবসময় খোলা আছে।

শুক্রবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে নারদ-স্টিং অপারেশন নিয়ে জনস্বার্থ মামলার শুনানি। তার ঠিক আগের দিনই লালবাজারের ‘তলবি ই মেল’ পেলেন নারদ নিউজের সিইও ম্যাথ্যু স্যামুয়েল!