সোমবার, ১১ই জুন, ২০১৮

ধরা পড়ল ম্যাডক্স স্কোয়ারে হত ইঞ্জিনিয়ার রোমিতের হত্যাকারী

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
জুন ২৩, ২০১৬
news-image

কলকাতা: একটা নীল স্কুটার। আর সেই সূত্র ধরেই ম্যাডক্স স্কোয়ারে ইঞ্জিনিয়রের রহস্যমৃত্যুর কিনারা করল পুলিশ! পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে, ঘটনার কিছুক্ষণ পরই, বালিগঞ্জ থানায় ফোন করেন এক যুবক। ফোনে মেজাজ দেখিয়ে তিনি বলেন, ম্যাডক্স স্কোয়ারে এভাবে বাইরে থেকে ছেলেরা আসছে, ঝামেলা করছে, আপনারা তো কিছুই দেখছেন না!

পরদিন সকালেই পুলিশের কাছে খবর পৌঁছয়, ম্যাডক্স স্কোয়ারের পাশে রহস্যমৃত্যু হয়েছে এক ইঞ্জিনিয়রের। তৎক্ষণাৎ ওই যুবককে ফোন করে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। জানা যায়, যুবকের নাম বিশাল। কথায় কথায় পুলিশ জানতে পারে, আগের রাতে ম্যাডক্স স্কোয়ারে একদল ছেলের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে তাঁদের। ঝামেলার পর, একটি গাড়ির কাচও ভেঙেছেন তিনি।

সব শোনার পর বিশালকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। কিন্তু, নজর রাখা হয় তাঁর গতিবিধির ওপর। প্রসঙ্গত, থানায় আসার সময় একটি নীল রঙের স্কুটার চড়ে এসেছিলেন বিশাল। পরে নিহত ইঞ্জিনিয়রের বন্ধুরা পুলিশকে জানায়, যাদের সঙ্গে তাঁদের ঝামেলা হয়েছিল, তাদের কাছে একটি নীল রঙের স্কুটার ছিল। এরপরই সন্দেহ দানা বাঁধে তদন্তকারীদের মনে।

বন্ধুদের বয়ান অনুযায়ী অভিযুক্তদের স্কেচ আঁকানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের সঙ্গে বিশালের মুখের আদল মিলে যায়। এরপরই গ্রেফতার করা হয় তাকে।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পর মেজাজ দেখিয়ে ফোন করা বিশালই, টাইলস ছুড়ে মেরেছিলেন গাড়ি লক্ষ্য করে, যার আঘাতে মৃত্যু হয় রমিত মণ্ডলের!

কিন্তু এমন ঘটনার পরেও পুলিশকে ফোন করে মেজাজ দেখানোর স্পর্ধায় হতভম্ব অনেকেই!

এদিকে, বিশাল ছাড়াও, বুধবার রাতে বালিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁর আরেক সঙ্গী বাবুসোনাকে। উস্তি থেকে গ্রেফতার করা হয় সুরজিৎ নামে আরেক অভিযুক্তকে। পুলিশের দাবি, এই তিনজনই পেয়ারাবাগানের বাসিন্দা। গ্রেফতার ৩ অভিযুক্তকে এদিন আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে, ২৯ তারিখ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করবেন তদন্তকারীরা। খোঁজ চলছে বাকি অভিযুক্তদের।