মঙ্গলবার, ১২ই জুন, ২০১৮

ইউরোপ ছাড়ল ব্রিটেন: পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ টাইম কলকাতা ডট কম
জুন ২৪, ২০১৬
news-image

ইউরোপের ২৮ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাজ্যের থাকা না-থাকা নিয়ে গণভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ইইউ ছাড়ার পক্ষেই বেশি ভোট পড়েছে। ঐতিহাসিক এ গণভোটের মাধ্যমে প্রথম কোনো দেশ হিসেবে ইইউ ছাড়ছে যুক্তরাজ্য।

গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নে না থাকার পক্ষ জয়ী হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এই গণভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গেলেও ইইউতে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গণভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিচ্ছেদপন্থিরা জয়ী হওয়ার পর ক্যামেরনের উপর পদত্যাগের চাপ বাড়ছিল।

ফল প্রকাশের পর শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে স্ত্রী সামান্থাকে নিয়ে এসে এক টেলিভিশন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

বিবিসির অনলাইনে প্রকাশিত সর্বশেষ ফল থেকে জানা যায়, ইইউ ছাড়ার পক্ষে (ব্রেক্সিট) ভোট পড়েছে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ। ভোট দিয়েছেন এক কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪২ জন। আর ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট পড়েছে ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। মোট ভোট দিয়েছেন এক কোটি ৬১ লাখ ৪১ হাজার ২৪১ জন।

ইইউতে থাকা না-থাকা নিয়ে ভোট শুরু হয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায়। ভোট শেষ হয় রাত ১০টায়। এর পরপরই বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা শুরু হতে থাকে।

ভোটের ফল ঘোষণার সময় থেকেই ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দরপতন শুরু হতে থাকে। ১৯৮৫ সালের পর বর্তমানে ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম সবচেয়ে কম।

যুক্তরাজ্যের ইনডিপেনডেন্ট পার্টির (ইউকেআইপি) নেতা নাইজেল ফারাজ দিনটিকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ইইউতে থাকার পক্ষের লোকজন ঘটনাটিকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দেন।

এই গণভোট আহ্বান করা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে পদত্যাগের আহ্বান জানান নাইজেল ফারাজ। তিনি বলেন, ভোটে হারার পর ক্যামেরনের উচিত দ্রুত পদত্যাগ করা।

আরেক বিরোধী দল লেবার পার্টির একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, ‘আমরা যদি ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দিই, তাহলে ক্যামেরনকে নিজের অবস্থানের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।’

এদিকে ইইউ ছাড়ার পক্ষে থাকা ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের প্রভাবশালী সদস্য লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন এবং মাইকেল গোভ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, ফল যা-ই হোক, ক্যামেরনের উচিত স্বপদে থাকা।

উদ্বেগ ইইউতে
ভোটের এ ফল যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের অন্যান্য দেশের সম্পর্কে বাঁকবদল হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এর ফলে গ্রিসকে দেউলিয়াত্বের হাত থেকে রক্ষা করতে ইইউর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে; সিরিয়াসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের নিয়েও জোটটি বিপদে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যান্য দেশগুলোও যুক্তরাজ্যকে অনুসরণ করে ইইউ ছাড়তে গণভোটের আয়োজন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, যার নজির ফল ঘোষণার পরপরই দেখা যেতে শুরু করেছে।

ভোটে যুক্তরাজ্যভুক্ত দেশগুলোতে আলাদা ফল হওয়ায় ‘যুক্তরাজ্য’র ঐক্যও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে বিবিসির এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধারণা করছেন।

ভোটের ফলের পর স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারগিওন বলেছেন, রায় বলছে- স্কটল্যান্ডের জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে থাকার শক্তিশালী বার্তা জানিয়ে দিয়েছে।

২০১৪ সালে হওয়া গণভোটে স্কটল্যান্ডের বেশিরভাগ নাগরিক যুক্তরাজ্যে থাকার পক্ষে রায় দিলেও ব্রেক্সিট ভোটের পর সেই অবস্থান বদলে যাওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন তিনি।